মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১

আক্রান্ত পার্টিকর্মীদের পাশে দাঁড়ান

 



রাজ্যজুড়ে পার্টিকর্মীরা আক্রান্ত, পার্টি অফিসগুলি আক্রান্ত, সাধারণ কর্মী সমর্থক আক্রান্ত, খুনও হয়েছেন। এরপর শুরু হবে মিথ্যা মামলা চাপানো, এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া ও জরিমানার নামে বিপুল অঙ্কের তোলা আদায়৷
বিজেপি এই রাজনৈতিক অস্থিরতাকে পুঁজি করে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করবেই। আগামী পঞ্চায়েত বা পুরসভা ভোট অবধি এটা চালাবেই এরা। তাই আমাদের কর্মী সমর্থকদের লড়াইটা রোজ কঠিন হবে যারা মাটিতে রয়েছে।
এক্ষেত্রে "মানুষের পাশে" দাঁড়ানোর কথা যারা বলছেন তাদের বলি- সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়নি, আক্রান্ত আমাদের পার্টির কর্মী সমর্থক ও নিচুস্তরীয় সংগঠনের নেতারা হচ্ছে। এখনই এদের পাশে থাকা দরকার। নতুবা আগামীতে ফেসবুকে চারটে লোক "আমরা শূন্য হলেও বাম" ইত্যাদি মার্কা আঁতলামো মারলেও, বাস্তবে পাড়ায় লাল পতাকা বাঁধার লোক মেলা দুষ্কর হবে।
২০১৬, ২০১৮, ২০১৯ সালের মতোই সর্বত্র পার্টিকর্মী সমর্থকেরা রাস্তায় হাহাকার করছে, অধিকাংশ জেলা নেতারা বেপাত্তা, কেউ কেউ এক আধজন সুন্দর ও মরমী বক্তব্য দিচ্ছেন। ওইটুকুই-
রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর ১৮ জনের মধ্যে চারজন প্রার্থী ছিলেন এই বিধানসভা নির্বাচনে, তারা রাস্তাতেই আছেন নিজ নিজ কেন্দ্রে। প্রবীন বিমান বাবু, সূর্য বাবু এবং শারিরীক ভাবে ভীষণ অসুস্থ, গৌতম দেব ছাড়াও আরও ১১ জন আছেন এই সম্পাদকমণ্ডলীতে। এনারা কোথায়? কেন আছেন পদে?
এছাড়াও রাজ্য কমিটির অবশিষ্ট ৭০ জন সদস্যের মধ্যে ১৪ জন প্রার্থী ছিলেন, তারাও অনেকে রাস্তায়, কেউ কেউ শারিরীকভাবে আক্রান্তও। কয়েকজন প্রয়াত, অবশিষ্ট প্রায় ৫০ জনের অধিক নেতারা কোথায়? তারা নিজ নিজ জেলায় জেলা কমিটির সদস্যদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন না কেন উদ্ধারে?
সব দোষ শুধুই আলিমুদ্দিনকে দিলে আপনার দায় শেষ? MLA, MP, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত বা মিউনিসিপ্যালিটির মেম্বার হলে তো আপনারাই হতেন, বিজয়ীর মালা তো আপনাদের গলাতেই উঠত। সংগঠন কি আপনাদের চামচে করে গিলিয়ে দিতে হবে? নেতৃত্ব কি আপনাকে চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে আসবে?
এই রাজ্য কমিটির সদস্যদের বাইরে- যারা প্রার্থী ছিলেন তারা আজ কোথায়? কজন নিজের কেন্দ্রে রয়ে আছে, আর কতজন বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে আছে? কেন আছে বাড়িতে?
গোটা প্রক্রিয়ায় যে কমরেডটি আপনার সাথে রইল, মিছিলে হাঁটল, স্লোগান দিল, ভোটের দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুথ রক্ষা করল, আপনি তাদের পাশে দাঁড়ানো তো দুরস্থান, ফোনটুকু রিসিভ করবেন না? আপনি কি জাস্টিফাই করছেন- মানুষ আপনার মতো পলায়নপর মানসিকতার লোককে ভোট না দিয়ে ঠিকিই করেছে! কালকে আবার ভোট আসবে, কেন কেউ আপনার হয়ে আবার খাটবে? এখন এই চরম বিপদের দিনে পাশে না দাঁড়ালে কবে দাঁড়াবেন? বাৎসরিক বিপ্লবের দুটো নির্দিষ্ট দিনে গলার শিরা ফুলিয়ে বক্তৃতা দিয়েই দায় শেষ?
আমাদের দলের কয়েকজন হাতে গোনা প্রার্থী ছাড়া অধিকাংশ জনই সামান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করার সৌজন্যবোধ টুকু দেখাবার প্রয়োজন করেননি। কী লাভ তরুণ প্রার্থী দিয়ে - ভাবনাতে যদি তারুণ্য না থাকে!
যাইহোক, আক্রান্তদের পাশে থাকতে গেলে এই মুহূর্তে টাকা দরকার, জানি না পার্টির কোথায় কী অর্থ সংস্থান আছে! একটা আশু উপায় আছে নিয়মিত অর্থ যোগানের। যতজন আমাদের প্রাক্তন এমএলএ, এমপি, কর্মাধ্যক্ষ আছেন- প্রত্যেকে আগামী এক বছরের জন্য নিজেদের সামগ্রিক পেনশনের টাকা- কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর ফান্ডে জমা দিন৷ এর সাথে অন্যত্র থেকে যেমন অর্থ সংগ্রহ চলে, চলতে থাকুক। তাতে এই মুহূর্তে বেশ কিছুটা অর্থবল নিয়ে ঝাঁপানো যাবে, শেল্টার দেওয়া যাবে।
প্রতিটি আদালতে একটা করে আইনজীবী সেল খোলা হোক, তাদের ফোন নম্বর স্থানীয় অঞ্চলের এরিয়া কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। মামলার বিষয়ে পার্টি প্রত্যক্ষ সহযোগী করুক।
অধিকাংশ প্রাক্তন এমএলএ, এমপি ঘরে বসে বসে ফেসবুকে শোক বিবৃতির নামে সাহিত্য রচনা করছেন। রাজ্য নেতৃত্বের মিডিয়া টিম- আগামীতে বিবৃতি সাহিত্যে আনন্দ বা সাহিত্য একাডেমি পুরষ্কার পেলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। আক্রমণ যত বাড়বে, আক্রান্ত পার্টি কর্মীর সংখ্যা বাড়বে, তত বাড়বে বিশেষ সাহিত্যধর্মী পোস্টের সংখ্যা- তাতে শোক, দুঃখ, প্রত্যয়, বাণী, সোভিয়েত, লাতিন, মার্ক্স, লেলিন, বিপ্লব ইত্যাদি সব আসবে- পোস্টের মাধ্যমে, নিয়মিত।
গতকাল জনৈক দিল্লীবাসী বাঙালি পলিটব্যুরো সদস্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন, কোলকাতা সন্নিহিত এক জেলার সম্পাদক লম্বা ও মোহনীয় বিষাদ সাহিত্য লিখেছেন। দলের রাজ্য পেজ থেকেও 'বিবৃতি সাহিত্য' পোস্ট হয়েছে। সেগুলোর কমেন্ট সেকশনে চলে যান, দলীয় কর্মী, সাধারণ মানুষ সীমাহীন অশ্রাব্য খিস্তি দিচ্ছে। চামড়া গন্ডারের থেকেও মোটা না হলে এসব খিস্তিখেউড় কোনো সুস্থ মানুষ সহ্য করতে পারে না।
সুতরাং, এই সাহিত্য এন্টারটেইনমেন্ট ওনারা চালাতে থাকুক, এটাই হয়ত সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সময়। আপনার আক্রান্ত- হয়েছেন বা হতে পারেন, আপনারা নিজেদের জন্য একটা ফান্ড গঠিত করুন, অর্থের যোগের বিকল্প বললাম, সেটা নিয়ে ভাবুন। পার্টির তরুণ ও মাঠে থাকা নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। পার্টিকর্মীদের পাশে দাঁড়ান সাধ্যমতো।
বিজেপি অনেক স্থানে বাম কর্মীদের ন্যুনতম শেল্টার দেবার কথা প্রকাশ্যে বলছেন, কেউ কেউ প্রাণের দায়ে যাচ্ছেও সেখানে। এটাই নাগপুরী চাল, কালকে এই বাম কর্মীদের সকলে দলে ফিরবে তো? না ফিরলে দায় কার?
পুনশ্চঃ
__
ব্যক্তিগত আমি অর্থ দিতে পারব না সেভাবে, মামলাতেও সাহায্য করতে পারব না, আমি নিজেই ওতে জর্জরিত। তবে সাময়িকভাবে নিরাপদ আশ্রয় দিতে পারব বেশ কিছু জন পুরুষ পার্টিকর্মী সমর্থকদের- যারা সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ঘরছাড়া। ফোন নম্বর লাগলে ইনবক্সে যোগাযোগ করুন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...