বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫

বুমরাহ মিথ

 


Myth vs Fact

বুমরাহ দুর্দান্ত বোলার সন্দেহের অবকাশই নেই, কিন্তু পরিসংখ্যান কী বলছে?

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে, মোট ৪টি ম্যাচ খেলেছে, যার মধ্যে ভারত ২০টি ম্যাচ জিতেছে এবং ২টিতে হেরেছে, আর ছয়টি ড্র করেছে। বুমরাহ খেলা ম্যাচে ভারতের জয়ের হার ৪%। একই সময়ে, বুমরাহ ছাড়া মোট ২টি টেস্ট খেলেছে ইন্ডিয়া, যার মধ্যে জয়ের হার ৭১.৪২%, ২০টি জয়, পাঁচটি পরাজয় এবং তিনটি ড্র

ভাইরাল মিমের পিছনে এটাই পরিসংখ্যানগত সত্যতা মিথের উন্মোচনও বটে। পরিসংখ্যাগুলো নিবিড়ভাবে দেখলে বাস্তবতা এবং বুমরাহ আবেগ’ এর মধ্যে বিরাট পার্থক্য দেখা যাবুমরাহ ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় একই সংখ্যক ম্যাচ খেলেছে এবং বর্তমান সিরিজের শেষে, ইংল্যান্ডেও সমান সংখ্যক বা তার বেশি ম্যাচ খেলেছেলর্ডস টেস্টের আগে বুমরাহের ৪৬টি টেষ্টের মধ্যে ৩৪টি এশিয়ার বাইরে SENA দেশগুলিতেব্যাক্তিগত কিছু দক্ষতা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সিচুয়েশনে দলকে সেভাবে কন্ট্রিবিউট করতে পারেনি- অন্তত পরিসংখ্যান সেটাই বলছে।

T-20 তে বুমরাহ দলের জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি, যেখানে তার বোলিং গড় আকর্ষনীয় 17.74, ভারতীয় বোলারের মধ্যে বুমরাহর গড় সেরাএই টুকুই।

বুমরা থাকলে সিরিজ জেতেনা এই মিথটাই আসলে আরো একবার প্রমানিত হলো। কারন টেষ্ট ক্রিকেটের মত ধ্রুপদী আসরে বুমরা মোটেও কিম্বদন্তী নয় যতটা আমাদের মিডিয়া ফাঁপিয়ে দেখাবার চেষ্টা করে।

 

মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫

আমেরিকা কখনও কোনো যুদ্ধ জেতেনি



ট্রাম্প হচ্ছে আমেরিকার রাখী সাওয়ন্ত বা কঙ্গনা রানাওয়াত। ফুটেজ খাওয়ার জন্য যা খুশি আলবাল বলে দেয়। যেকোনো মূল্যে প্রতি ঘন্টার হেডলাইনে যেন তার নাম থাকে। তার যে শত্রু, সেই লোকের ততটা সমস্যা নেই, যতটা বিপদ বন্ধু হলে। কখন যে বন্ধুর ইজ্জতের নিলামি চড়িয়ে দেবে তা ধরতে পারবেননা। গতরাত্রে ইঁমানুয়েল ম্যাঁকো সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝেছে।
মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বের নিরিখে- মমতা বাদে তৃণমূল দলের পদাধিকারীদের যতটা গুরুত্ব, কিম্বা বিজেপিতে জেপি নাড্ডার যতটা গুরুত্ব - মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পও তাই। ল্যাম্পপোস্ট। ট্রাম্প হচ্ছে ফাটাকেষ্ট, খবর দেখেনা, খবর পড়েনা- খবর তৈরি করে।
ওদিকে ইরাণের খামেইনি শাসকেরা কী ধোয়া তুলসীপাতা? মোটেও তা নয়, তাদেরও কুকীর্তির শেষ নেই। তারপরেও সে যখন মানবতার শত্রু দখলদার হিজরায়েলের বিরুদ্ধে একদম সামনের সারিতে, সেখানে ইরাণকে সাপোর্ট করা মানবিক দায়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ গত ৪৬ বছর ধরে ইরাণের ধোপা-নাপিত বন্ধ করে একঘরে করে রেখেছে আন্তর্জাতিক ভাবে। যত ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ দেওয়া সম্ভব, সবটা দিয়েছে। সমস্ত ধরনের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা - চালিয়েছে। তার পরেও ইরাণ কিন্তু বুক চিতিয়ে এখনও ক্রিজে টিকে আছে।
খামেইনির ইরাণ- কার্টার, রেগন, কশাই বাপবেটা বুশ, শয়তান ওবামা ও যুদ্ধবাজ যায়োনিষ্ট বাইডেনকে দেখেছে, সয়েছে। সোভিয়েতের পতনের পর রাশিয়া-চীন জোড়া উত্থানের আগে অবধি অর্থাৎ নব্বই এর দশকের শেষ থেকে পরবর্তী প্রায় দেড় দশকের আমেরিকার মত একচ্ছত্র ক্ষমতাবান আমেরিকা- ইতিহাসে কখনও ছিলোনা। ইরান সেই পিরিয়ড সয়েও টিকে রয়েছে। শুধু টিকেই নয়- তারা যে অর্থনৈতিক ও সামরিক ভাবে ঈর্শনীয় সক্ষমতা হাসিল করেছে- গত চার রাত ধরে গোটা বিশ্ব তার সাক্ষী
সুতরাং, উন্মাদ ট্রাম্প কিছু একটা হেগেছে মুখ দিয়ে, মানেই ইরান পেচ্ছাপ করে ফেলবে এমনটা নয়। এটা নার্ভের লড়াই, আরো কিছুদিন চলবে। খোদ আমেরিকাতেই যায়োনিষ্ট ছাড়া সকলে যুদ্ধ বিরোধী। হিজরায়েলের জন্য আর তারা যুদ্ধে জড়াতে চায়না। যুদ্ধবাজ কুত্তানিয়াহুর অহঙ্কার দম্ভকে টিকিয়ে রাখতে আর মার্কিন নাগরিকেরা তাদের সন্তানের কফিনবন্দী লাশ দেখতে চায়না। তারা বলছে আমেরিকা ফার্স্ট স্লোগান দিয়ে ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছিল, হিজরায়েল ফার্স্ট নয়। মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন, মেগ BiBi গ্রেট এগেন দাবী ছিলোনা।
অবশ্যই যুদ্ধ সক্ষমতায় আমেরিকা এগিয়ে, কিন্তু মানসিক কঠোরতা আর দাঁত চেপে টিকে থাকার লড়াইতে ইরাণ অনেক অনেক কদম এগিয়ে। পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস আমেরিকার আছে, মাত্র ৪ বছর আগেই আফগানিস্তান থাকে পালিয়ে এসেছিল। চরম স্বার্থপরেরা কারো বন্ধু হয়না। ইতিহাস বলছে পারস্য কখনও পরাধীন হয়নি, আমেরিকা কখনও কোনো যুদ্ধ জেতেনি।

বাকিটা অদূর ভবিষ্যৎ ই জবাব দিয়ে দেবে।

হি'টলারের ক্যালানি থেকে বেঁচে ফেরা- তোদের বাপ দাদাদের দয়া করেছিল ফিলিস্তিনিরা, থাকার জাইগা দিয়েছিল, খাবার দিয়েছিল। তার পরবর্তী ৭৭ বছর ধরে তোরা সমকালীন বিশ্বে সেই একই গণহত্যা, সেই জেনোসাইড টাই করেছিস, যেটা তোদের পূর্বপুরুষদের উপরে গেস্টাপো বা ব্ল্যাক-শার্ট করেছিলো। ফিলিস্তিন নামটাই ম্যাপ থেকে মুছে দিয়েছিস তোরা।

আজকে প্রমান হয়ে গেছে না'জি দের শত ভূল থাক, তোদেরকে চিনতে কোনো ভুল করেনি, তোদের গনহত্যা করার মত মানবিক কাজ আর দ্বিতীয়টা ছিলনা, আজও নেই। তোরা যেখানে যাবি সেখানেই দখল করে অত্যাচার করবি, বিশৃঙ্খলা করবি, অরাজকতা ছড়াবি, যে থালায় খাবি সেটাতেই ফুটো করে দিবি।
তোদের কোনো রাষ্ট্র থাকতে নেই, শান্তি আর সুস্থতা তোদের রক্তে নেই। শাইলকরা মানুষ নয়, যেখানেই থাকুক তারা অমানুষ কসাই ই হবে।

শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫

কোচ গৌতম গাম্ভীর

 


  • ইংল্যান্ডের মাটিতে তার টেষ্ট গড় ১২.৬
  • তার কোচিং এ শেষ ৯টা ম্যাচে ল্যাজেগোবরে। বাংলাদেশের মত নাবালকদের বিরুদ্ধে ছাড়া সব ম্যাচে হেগেছে। 'পার্ফর্মেন্স গ্যায়া তেল লেনে'।
  • মূলত KKR কোটার প্লেয়ারে ভর্তি।
  • রায়ান টেন ডাসকোটে, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা- এরা খায় না গায়ে মাখে কেউ জানেনা। ডাসকোটে ও তার দেশ কখনও টেস্ট ম্যাচই খেলেনি।
  • ব্রাহ্মণ্য কোটার খেলোয়ার বওয়ার ধারা- শার্দুল ঠাকুর।
  • সিনিয়ারদের 'একে একে নিভিছে দেউটি' আসলে এ্যারোগ্যান্ট গাম্ভীরের ম্যান ম্যানেজমেন্ট এর ব্যার্থতা। নতুনদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে গল্পতে, আসল দোষ কী খন্ডাবে? নাকি সিনিয়িরদের হ্যান্ডেল না করতে পারার ব্যার্থতা আসলে ঔরঙ্গজেবের!
কাল এই দ্বিতীয় টেষ্ট জিতে গেলেও প্রশ্ন গুলোকে ধামাচাপা দেওয়া যাবেনা।
আপনি বলবেন ইংল্যান্ডের মাটিতে ১ ম্যাচে ৫ সেঞ্চুরি, এটাও তো হয়েছে। ব্যাটিং কোচ সিতাংশ কোটাক আর থ্রোয়ার টি দিলীপ তাহলে কী শো-পিস?
মর্নি মরকেল, আরেক KKR কোটার মাল। জাহির খানের বদলে গৌতম গম্ভীর এই চার ওভারের কোচকে জাতীয় কোচ বানিয়েছিল। চচ্চড়ির মসলা দিয়ে বিরিয়ানি দুরস্থান, কষাও রান্না করা যায়না। ফলত ইংল্যান্ডের মাটিতে ইন্ডিয়ান বোলারেরা হাগছে।
সম্ভবত আরেকটা 'পৃথ্বী শ' এর যোগ্য উত্তরসূরী হতে চলেছে জয়সোয়াল। ক্রিকেটীয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, চরম অবাধ্য, উন্নাসিক আর অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে স্লিপে চার খানা ক্যাচ ফেলে দিচ্ছে, অথচ সামান্যতম অনুশোচনা নেই দৃশ্যত। গাম্ভীর ড্রেসিং রুমে বসে করেটা কী? নুন্যতম কোনো নোট পাঠায় মাঠের অধিনায়ককে! অধিনায়ক নিজেই তো নবীন, জয়সোয়ালকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও রাখতে হবে বা তার বদলে অন্য কাউকে ওখানে নিয়ে আসতে হবে এগুলোর নির্দেশ বাঘেশ্বর ধামের বাচালটা দেবে?
ভক্তদের আসল বাপ তো ইংল্যান্ডই- as per Veer Savarkar. কে জানে, গৌতম গাম্ভীর সেই পিতৃ ঋণের জন্য অর্পণ আহুতি দিচ্ছে কিনা।
দশ দিন বিশ্রাম নেওয়ার পর বুমরাকে রেডি করতে পারেনি একটা টেস্ট ম্যাচের জন্য কত বড় অপদার্থ গম্ভীরের পছন্দের ফিজিওরা I
হর্ষিত রানা কেন এসেছিল আর কেনই বা চলে গেলো এর জবাব বোধহয় পাকিস্তান দেবে। গম্ভীর নিশ্চুপ তার এ্যারোগেন্ট বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে।
গোলি মারো শালোকো- অনুরাগ ঠাকুরের সাথে গৌতম গম্ভীরের কোনো ফারাক আছে? কেন ভিভিএস লক্ষণকে টেষ্টের জন্য কোচের দায়িত্বে বহাল করা হবেনা- ট্রাম্পকে শুধাবো ট্রুথ সোস্যালে।
গম্ভীরের সব সময় পছন্দ ইয়েস ম্যান এবং তল্পিবাহক। আর গম্ভীরকে পছন্দ করেছে নাগপুর। জাহির খান কোচ হবেনা, শামি বা সরফরাজ চান্স পাবেনা- কোনো যুক্তির ধারেপাশে না গিয়েই। অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবেনা।
নাগপুরের নাগপাস থেকে থেকে মুক্ত না হতে পারলে, এই একটা ক্রিকেট যা নিয়ে নানাভাবে বিভক্তরা সবাই একসুরে- ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ভারতীয় হয়ে উঠে, সেটাও আরব সাগরের জলে তলিয়ে যেতে সময় লাগবেনা।

বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০২৫

ভ্যাক্সিন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত

 


সিদ্ধান্ত নেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, এবং সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারাটা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেই সময় শুরুতেই সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলাম- করোনা ভ্যাকসিনের ইনজেকশন আমরা নেবনা। এই 'মাস ট্রায়ালের' গিনিপিগ আমরা হবোনা। আজকে প্রমানিত হয়েছে সেদিনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো।


বেশ কয়েকজন -

সেইসব চু'দিরব্যাটা ভক্তেরা কোথায় যারা ভ্যাকসিনের হয়ে লম্বা লম্বা হ্যাজ নামিয়ে লাইন দিয়ে ভ্যাক্সিন নিয়েছিল, পারলে ৮-১০ টা ডোজ নিয়েছিল মগজে, বুকে, সোনাপোনাতে- নাম ভাঁড়িয়ে নিয়েছিল। ভ্যাক্সিনেশনের সার্টিফিকেটে ছিল সাদা দাড়ির "De Brezza জাতের বেবুনটার সহাস্য ছবি। হাঁটুতে বুদ্ধি আর মগজে গোবর হলে এটাই হয়।

লক্ষ লক্ষ এ্যাম্পুল জলের সাথে, যার ভাগে ট্রায়াল ভ্যাকসিনের sample টেস্টিং এলিমেন্ট শরীরে গেছে- তারাই আজ দুমদাম বিনা কারনে পটল তুলছে হার্টফেলের নামে।

কেন নরেন্দ্র মোদী সহ তৎকালীন সরকারে থাকা সকলের বিরুদ্ধে এইভাবে জবরদস্তি mass trial ভ্যাক্সিনেশনের বিরুদ্ধে আজ মামলা হবেনা? কেন সিরাম ইনস্টিটিউট, ভারত বায়োটেক, গেটস ফাউন্ডেশন এর বিরুদ্ধে মামলা হবেনা? লক্ষকোটি টাকার সরকারি ভান্ডার এরাই লুঠেছে, কোভিড ভ্যাক্সিনের ট্রায়াল চালিয়ে। বিশ্বগ্রুর এটাও একটা বিশাল আর্থিক দুর্নীতি, এর অনেকটা ভাগ কর্পোরেট ফান্ডিং এর নামে দলীয় তহবিলে চলে এসেছে। অবশ্যই এটা এক ধরনের জেনোসাইড।

রাষ্ট্রের প্রধান হিসাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী ভরষা আর নিশ্চয়তা দিয়েছিল যাতে মানুষ বিশ্বাস করে- সিরামের আদর পুনাওয়ালাকে,কিরণ মজুমদার বা এদের মত কর্পোরেট মিথ্যুক চোরেদের। আজ এরা কোথায়? কেন আজ মোদী দায় নেবেনা?

কেন মামলা হবেনা?

বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫

গণতন্ত্র ও জায়োনিজম



কি ভাবছেন তারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে?

আপনি ভাবছেন তারা শুধুমাত্র সম্পদের জন্য লড়াই করছে!
আপনি ভাবছেন তারা শুধুমাত্র দাদাগিরি করার জন্য লড়াই করছে!
আপনি ভাবছেন মুসলমান সব থেকে বড় ধর্মোন্মাদ জাতি, কেউ বলবে খ্রিস্টানরা সব থেকে বড় ধর্মোন্মাদ জাতি, তারাই তো ক্রুসেডের নামে লক্ষ কোটি মানুষকে জবাই করেছিল। আরেকটা দল ভাবছে উগ্র হিন্দু তথা আরএসএস বাদী ভক্ত ও তাদের নাগপুরি প্রভুরা সবথেকে ধর্ম উন্মাদ সম্প্রদায়। আসলে আপনি একটি নিরেট গর্ধব, ততটুকুই বোঝেন যতটা আপনাকে বোঝানো হচ্ছে, আপনার চোখ কান নাক এবং পঞ্চ ইন্দ্রিয় শুধুমাত্র ভোগবিলাসের জন্য, জ্ঞান আহরণের জন্য নয়।
এরা লড়াই করছে ইমাম মাহাদীকে আটকানোর জন্য, দাজ্জালকে বসানোর জন্য, মাসায়া বা মেসিকে স্বাগত জানানোর জন্য। এরা জেরুজালেমের আল-আকসা মসিজদকে- 'হাইকেল ই সুলাইমানি' বা সিনাগগে রূপান্তর করেতে চায়, তাই ইহুদিরা গোটা বিশ্ব থেকে প্রমিশ ল্যান্ডে আসছে ইউরোপ আমেরিকার সুস্থির স্বাচ্ছন্দ্য জীবন ছেড়ে এসে। এরা বিশ্বাস করে তাদের মাসায়া বা পরিত্রাতাএলে ইহুদিরা বিশ্ব শাসন করবে। আর ইসলাম বলছে ইমাম মাহদি ইহুদিদের মাসায়া বা দাজ্জালের সবচেয়ে বড় শত্রু, যে মাসায়াকে কখনও রাজা হতে দেবেনা। এটাই মোটাদাগে গল্পটা। বাকিটার জন্য ইউটিউবে প্রচুর লিঙ্ক পেয়ে যাবেন, বিস্তারিত শুনে নিন আগ্রহ থাকলে।
আপনার কাছে হাস্যকর ও উদ্ভট মনে হতো এগুলো আমি বললে। আজ থেকে দশ-বারো বছর আগে যখন আমরা কেউ কেউ জায়োনিষ্ট শব্দটা লিখতাম এই ফেসবুকের নানা প্রবন্ধে, আপনাদের কাছে মনে হতো এটা আবার কোন ভাষা! পাগল ছাগল জোটে যত্তসব, ব্যাটা ইসলামিক মৌলবাদী ইত্যাদি পদবী জুটতো আমার। সব আজকের দিনে এসে জায়োনিষ্ট শব্দটা বাচ্চা বাচ্চাও জানে। আগামীতে আপনারাও জানবেন কে ইমাম মাহদি, কে দাজ্জাল, কে মাশায়া কিম্বা কে ঈসামসী। সত্যকে চেপে রাখা যায়না মিথ্যার জুমলা দিয়ে।
এই অবধি এক মুহূর্তের জন্য আপনার মাথায় আসেনি- ইহুদিরা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মৌলবাদী ধর্মান্ধ জাতি। প্রতিটা আমেরিকান প্রেসিডেন্ট মৌলবাদের সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষক। বর্তমান মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী 'রুবিও' একজন ধর্মান্ধ মৌলবাদী জায়োনিস্ট। পশ্চিমা মিডিয়া যেহেতু আপনাকে শেখায়নি এরা মৌলবাদী ধর্মান্ধ, তাই এই ভাবনা আপনার মাথায় আসেইনি। পশ্চিমারা জানে আপনি একটা বুদ্ধিহীন ভাঁড়, সূটেড বুটেড মানেই তারা সর্বোৎকৃষ্ট এবং তারা সমস্ত প্রশ্নের উর্ধ্বে দেবদূতদের আধুনিক রুপ। তারা আপনাকে শিখিয়েছে 'ইসলামিক মৌলবাদ' শব্দটা আর আপনি ওইটুকু জেনেই অর্গাজম করে ফেলেছেন।
আসলে আপনি যা দেখছেন ও ভাবছেন তা হিমশৈলের চূড়াটুকু মাত্র। পৃথিবীতে থাকা প্রতিটি ইহুদি বিশ্বাস করে তারাই একমাত্র মানুষ এবং পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ তাদের। তারা জন্মগতভাবে শাষক। বাকিরা কেউ বেঁচে থাকার যোগ্য নয়, একেবারে ব্রাহ্মণ্যবাদের দাদাঠাকুর। সে আপনি হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, শিখ, আদিবাসী যা খুশি ধর্ম পালন করুন কিংবা আপনি নাস্তিক হন- কিচ্ছু যায় আসে না তাদের। এটা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ, ইমান। ইহুদি ও জায়োনিষ্টদের ধর্মবিশ্বাস মতে, আপনি তাদের চাকরবাকর, আপনার প্রাণের দাম একটা মশা-মাছির চেয়ে এক পয়সাও বেশী নয়।
চোখ বন্ধ করে থাকলে প্রলয় আঁটকায় না। তাই চোখ খুলুন, জ্ঞান বাড়ান। আমার জন্য নয়, আপনার নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য, আপনার সন্তানের জন্য। চিনে নিন, দেখে নিন আপনার আসল শত্রু কারা।
আলকায়দা ও ওসামা তাদের তৈরি। আইসিস তাদের তৈরি। তালিবান তাদের তৈরি। অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে কে তাদের সৃষ্টি করেছে? গোটা পৃথিবী জুড়ে থাকা ৯৫ শতাংশ মিলিশিয়া জঙ্গি সন্ত্রাসী গ্রুপ এই জায়োনিষ্টদের তৈরি। গোটা পাকিস্তান নামের একটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র দেশ সেনাবাহিনী অধীনে, যে সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে এই জায়নবাদী প্রভু গোষ্ঠী, ভারতকে চাপে রাখতে, যুদ্ধের অস্ত্র বিক্রি করতে। এগুলো কি আপনাকে আজকে শিখিয়ে দিতে হবে? আপনি নিজেই তো জানেন সত্যটা।
ভক্তদের বলি, আপনারা যে ইহুদি ধর্মকে আদর্শ করে ইসরাইলকে দ্বিতীয় বাপ বানিয়েছেন, তারা আপনাদের মানুষ বলেই মনে করে না। আপনার ধর্মকে তারা সবচেয়ে বেশী ঘৃণা করে, মুসলমানদের চেয়েও বেশী। আপনার প্রাণের মূল্য গোবরে থাকা কীটপতঙ্গের থেকেও কম। অবশ্য আপনারা গোবরের পোকামাকড়ই বটে।
যুদ্ধটা অর্থনৈতিক ভাবে অবশ্যই চাবাহার আর হাইফার লড়াই। কিন্তু তার পিছনে রয়েছে ৩৫০০ বছরের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস, যার কারনে ইজরায়েল দেশটা ফিলিস্তিনে; ইউরোপ, আমেরিকা বা আফ্রিকাতে নয়।
ইহুদি মৌলবাদ আর জায়োনিষ্ট সন্ত্রাসীরা এখন ভয় পাচ্ছে, আপনি কী শুনতে পাচ্ছেন?

বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫

তামান্নার লাশ


 

৯ বছরের বালিকা, চটি সরকার তামান্নার লাশের দাম দিয়েছে ২০ লাখ।

হ্যাঁরে শুয়োরের বাচ্চা "দুধেল গাই" হজরতেরা, তোদের মা, বোন, বেটির শরীরের দাম ঠিক করে রেখেছিস তো? ইমান কি তোদের বৌ এর জরায়ুরে গজ্জিত রাখা যে, মাসে ৩-৪ দিনের জন্য একবার বের হয় মাসিকের সাথে, তাও 'ঐ' পথে। লজ্জা তোদের থাকতে নেই, বেজন্মা জারজের দল সব।
বিজেপি না মারা অবধি তোদের "ইসলাম বিপন্ন হয়না", তৃণমূলের খুনে বাহিনীর হাতে যারা খুন হয়- তাদের আর মুসলমানত্ব থাকেনা। মুখে বাপের বিচি চুষতে চুষতে "এতেকাফ" মোডে চলে যাওয়া মুমিনের দল শুধু জানে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বললেই 'বিজেপি চলে আসবে'।
এদিকে সুশীলদের একমাত্র লক্ষ্য- বাপের বাঁ'ড়া চোষা, দিদির বিরুদ্ধে বললে গাঁ'ড়ে পুলিসের ভয়, তাছাড়া কালীঘাটের উচ্ছিষ্ট পরবেনা পাতে।
চিরদিন কালীঘাট থাকবেনা, আজকের এই খুনগুলোর বদলা কিন্তু সময় নেবে, গুনে গুনে নেবে।
ছিঃ

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫

ব্রিক্স ও ভারত

 


ব্রিক্স ও ভারত

ব্রিক্স সম্মেলন শেষ না হতেই নরেন্দ্র মোদী ও তার দলবল জার্মানি চলে গেছেন। ব্রিক্স সম্মেলনে যাবার আগে কানাডা ও আমেরিকা ভারতকে বেশ ঘষে দিয়েছে। এতদিন যে মোদীজী আমেরিকা, ইজরায়েল করে লাফালেন। অস্ত্রশস্ত্র আমদামি করলেন রাশিয়াকে পিছনে ফেলে, কিন্তু তাতে লাভের লাভ কি হল? ফ্রান্সের যে র‍্যাফায়েল যুদ্ধবিমান নিয়ে এত নাচানাচি, সেই বিমান কিন্তু ইউক্রেনে পাঠায়নি ফ্রান্স

আমেরিকা ডেনমার্কের মাধ্যমে বুক ফুলিয়ে F-16 বিমান পাঠিয়েছিল, তার অর্ধেক উড়ার আগেই ধ্বংস করে ফেলেছে রাশিয়া। আমেরিকার একশো মিলিয়ান ডলারের রিপার ড্রোনও কোনো কাজে আসেনি। প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ৯০% উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। ইজরায়েল এতদিন বরাক টরাক নিয়ে গর্ব করতো, ভারতকে বিক্রিও করেছে বিলিয়ান বিলিয়ান ডলার নিয়ে, সেসব ধ্বংস করে এখন ইজরায়েলের অস্ত্র ব্যাবসাতে লালবাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে ইরান একাইফিলিস্তিন নিয়ে ভারতের এত দশকের অবস্থান এর বিপরীত অবস্থান নিয়ে আমেরিকার পদলেহন করে বাকি বিশ্বে প্রায় একঘরে হয়ে গেছে মোদীর ভারত

স্বভাবতই ব্রিক্স সম্মেলনে ভারতের গুরুত্ব ভয়ানক হ্রাস পেয়েছে। পাঁচজন প্রতিষ্ঠাতা দেশের একজন হয়েও ব্রিক্সে মোদীর ভারত তেমন পাত্তা পায়নি এইবারে, যেমন পেয়েছে ইরান বা তুর্কিয়ে। আসলে কাজান ডিক্লেরেশনে ভারত সই করেছে বটে, কিন্তু মোদীর ভারতের দুই নৌকায় পা দিয়ে চলাটা সবাই লক্ষ্য করেছে। বস্তুত চীন ও রাশিয়া ব্রিক্সে পোল পজিশনে, ভবিষ্যতে তারাই ব্রিক্সের দিক নির্দেশ করবে। এদিকে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ইরান যৌথভাবে নৌ-মহড়া ভারত মহাসাগরে শুরু করছে, ভারত সেখানে দর্শক

মূল সমস্যা হল ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির তুলনামূলক অবনতি, প্রায় প্রত্যেক দেশের সাথেই বানিজ্য ঘাটতি। চীন নিয়ে মোদী প্রশাসনের এত চেঁচামেচি, সেই চীনের সাথে ভারতের বানিজ্য ভয়ানক লজ্জাজনক। চীন ভারতে রপ্তানী করে ১০০ বিলিয়ান ডলারের পণ্য আর ভার সেখানে খুব বেশ হলে ১০ বিলিয়ান ডলার ছুঁতে পেরেছে। আসলে চীন প্রায় সর্বক্ষেত্রেই ভারতের থেকে ১৫-২০ বছর এগিয়ে রয়েছে। মোবাইল প্রযুক্তির ৯৫% যন্ত্রাংশ, ওষুধের ৯০% ভাগ কাঁচামাল, কৃষি মেশিনারি, কেমিক্যালস, ব্যাটারি, সব ক্ষেত্রেই চীনের আধিপত্য। ভারতকে ৯৫% তেল আমদানি করতে হয়, কিন্তু মোদীর সাহস নেই ভেনিজুয়েলা বা ইরান থেকে সস্তায় তেল আমদানি করার। রাশিয়ার থেকে ডিসকাউন্টে যে তেল কেনে ভারত, তার বেশিটাই রিফাইন হয়ে ইরোপে যায় বলে আমেরিকা কিছু বলেনি। অথচ ইরান থেকে স্বল্প খরচে তেল আমদনি করা যেত, যা অতীতে করাও হয়েছে

ভারতের একমত্র জোরের যাগা তার আভ্যন্তরীণ বাজার, এবং প্রভুত ক্রয়ক্ষমতাসপন্ন মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়। এদেরই করের টাকা দেশের যত লম্ফঝম্ফ! অথচ ইরান, তুর্কিয়ে চমকে দেবার মত উন্নতি করেছে। অবশ্যই ভারতও করেছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য মাত্র। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে চীন শিক্ষা, স্বাস্থ্যে যে পরিমাণ বিনিয়োগ গত পনেরো বছরে করেছে, ভারত তার কুড়িভাগের একভাগও করেনি। এখানেই আসল সমস্যা। এক সময়ে ভারতীয় রেলের থেকে চীনের রেল খারাপ ছিল। চীন কিন্তু লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা রেলের উন্নয়নে খরচ করেছে, সেকখানে ইন্ডিয়ান রেলের এ্যাচিভমেন্ট হচ্ছে  দৈনিক দুর্ঘটনায় রেকর্ড সৃষ্টি করেলক্ষ লক্ষ রেলের চাকুরিতে পদ খালি, নতুন লাইনের কখবরই নেই। আজ রেলের গণপরিবহনে চীন পৃথিবীর সেরা।

ভারতকে বিশ্বে সম্মানের সাথে টিকে থাকতে হলে নিজের ঘরের দিকে নজর দিতে হবে। শিক্ষা, গণস্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্তথান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করতে হবে। পাকিস্তান প্রতিপক্ষ নয়, কিন্তু চিনের সাথে পাল্লা দিতে হলে, অস্ত্র দিয়ে নয়- শিক্ষার উন্নতি দিয়ে করতে হবে, স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে হবে। কয়লা পেট্রোলের বদলে বিকল্প জ্বালানি, বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু হবে কি? বিজেপি থাকলে আশা কম বা নেই। বিশেষ করে অশিক্ষিত নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় থাকলে আগামীতে কোনো সম্ভাবনা নেই ভারতের

প্রস্তাবিত ব্রিক্স কারেন্সি এখনও চালু হয় নি, অদূর ভবিষ্যতে হতে চলেছে। আসলে ব্রিক্স অর্থব্যবস্থা বিভিন্ন ধাপের অন্তিম ধাপ হল, ব্রিক্স কারেন্সি। তার প্রথম ধাপ হল ব্রিক্স সেটলমেন্ট সিস্টেম, ব্রিক্সপে। এখন দুই দেশের মধ্যে বানিজ্য করতে হলে, তা করতে ডলার বা ইউরোর মাধ্যমে। এসব নিয়ন্ত্র করে SWIFT নামের একটি সংস্থা, যার নিয়ন্ত্রক হল আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমী ইরোপ।

যেমন ধরা যাক ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি করবে। ভারতীয় টাকার সাথে ডলারের মুল্য স্থির বা ইরানের সাথে ডলারের মুল্য স্থির করে ওই সুইফট নামক সংস্থা। এর জন্য যা ইচ্ছে ট্রানজাকশন চার্জ করে সুইফট। সমস্যা শুধু সেখানেই নয়, তার ওপরে আছে নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক। এই নিষেধাজ্ঞা আগে জারি করত রাস্ট্রপুঞ্জ এবং তা সর্বতমান্য ছিল। এখন শুরু হয়েছে আমেরিকা ও পশ্চিমী ইয়োরোপের নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ আমেরিকা গোঁসা করলেই যে কোন দেশের মাথায় বজ্রাঘাত। আমদানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা এর প্রধান বলি ইরান, রাশিয়া, গণ প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া, ভারত, চীন সহ আরও অনেক দেশ। অর্থাৎ আমেরিকান ডলার শুধু রিজার্ভ কারেন্সিই নয়, এখন তা পশ্চিমাদের রাজনৈতিক অস্ত্র।

এটা যে কোন দেশের সার্বভৌমতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অবমনন। এ ছাড়া আরও অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক, ইনটারন্যাশন্যাল মনিটারি ফান্ড, বিশ্ববানিজ্য নিয়ামক সংস্থার মাধ্যমে। আমেরিকা বা ডলারের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, মূলত এসব একদেশদর্শী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, অন্য একটা কার্যকরী অর্থনীতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যই ব্রিক্সের সৃষ্টি।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইউনিপোলারিটির বিপক্ষে একটি মাল্টিপোলারিটি ব্যবস্থা, যেখানে কোন দেশের আধিপত্য বা নিয়ন্ত্রণ চলবে না। কথায় কথায় কোন দেশের সম্মপত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে না। নিষেধাজ্ঞার আড়ালে কোনো দেশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবেনা। আপাতত পৃথিবীর নটি দেশ এখন ব্রিক্সের সদস্য, প্রাথমিক পাঁচটি সদস্য দেশ ধরে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চীন ও সাউথ আফ্রিকা। এ বছর যুক্ত হয়েছে ইরান, ইথিওপিয়া, ইজিপ্ট ও ইউনাইটেড আরব এমিরেটস। সদস্য হবার পথে তুর্কিয়ে ও সৌই আরব। এ ছাড়া আরও বত্রিশটি দেশ সদস্যপদের আবেদন জানিয়েছে। এর মধ্যে এক চীন ছাড়া সকলেই উন্নয়শীল ইকোনমি

ব্রিক্সপে আর একটা ধাপ হল, ডলারে বদলে কান্ট্রি টু কান্ট্রি বার্টার। যেমন ধরা যাক ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি করবে, বদলে ভারত চাল, গম, মুর্গি রপ্তানি করবে। বিনিময়ের অনুপাত বা পরিমাণ একমাত্র দুই দেশই ঠিক করবে। এখনকার মত লন্ডন গ্রেন এক্সচেঞ্জ বা শিকাগো গ্রেন মার্কেট দাম ঠিক করবে না বা নিউইয়র্ক তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করবে না। এর মধ্যে দুই দেশের সম্মতি ব্যাতীত তৃতীয় কোন দেশের খবরদারীও চলবে না।

লক্ষ্য হল, এইসব লেনদেন বে মূলত ডিজিটাল কারেন্সিতে অর্থাৎ ব্রিক্স কারেন্সিতে। এতো গেলো কান্ট্রি টু কান্ট্রি ব্যবস্থা। এ ছাড়াও বিজনেস টু বিজনেস এবং বিজনেস টু পিপল ব্যবস্থার প্রশ্নও আছে এতে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এগুলির সমন্বয় করবে সিবিডিএস বা সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল সিস্টেম। দেশের ক্ষেত্রে তা করবে সে দেশের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক। যেমন ভারতের ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

একটা বিকল্প অর্থনৈতি ব্যবস্থা গড়ে উঠতে অনেক সময় লাগে, ব্রিক্সেরও লাগবে। বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, রাজনৈতিক স্থিতি, এক রকম নয়। যেমন ভারতে ক্ষেত্রে UPI বা চীনের mPay কিংবা রাশিয়ার মীর খুবই বিস্তৃত। কিন্তু বিভিন্ন দেশে তা এখনও গড়ে ওঠে নি, তার জন্য সময় লাগবে, সেটার প্রসে শুরু হয়েছে। মনে রাখা দরকার G-7 ভুক্ত দেশের মোট জিডিপি ও জনসংখ্যার থেকে ব্রিক্সের সম্মিলিত জিডিপি বেশি, জনসংখ্যাও অনেক বেশি। তাই খুব অল্পদিনেই দেখব ডলার তার মান হারাবে, একমাত্র বিনিময় মুদ্রা থাকার কারনে ডলারের যে দাদাগিরি ছিল, সেটার অবসয়ান হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ব্রিক্সপে এবং ব্রিক্স কারেন্সি এসে গেছে

মুশকিলটা কী জানেন, ঠিক এই সময়ে যখন একজন শিক্ষিত প্রধানমন্ত্রীর দরকার ছিল ব্রিক্সের রাশ হাতে নিয়ে বিশ্বগুরু হয়ে উঠার জন্য, সেখানে অশিক্ষিত মোদীর লাল চোখের সার্কাস- ইন্ডিয়াকে ক্রমশ মূল্যহীন একঘরে করে দেওয়ার দিকেই নির্দেশ করছে। হাতে পাওয়া সুযোগ ছেড়ে দেবার আরেক নজির আমাদের চোকখের সামনে ঘটে চলেছে। 

 

বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫

জি সেভেন বৈঠক ও কিছু কথা।



জি সেভেন বৈঠক ও কিছু কথা।

কারা কারা ছিলো এই বৈঠকে? ইতালি, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, জাপান আর আমেরিকা। আজকের গুগুল মিট, জুম কল, মাইক্রোসফট টিম এ্যাপসের যামানাতে এমন মুখোমুখি মিটিং বিষয়টারই দাবী ফুরিয়েছে। তারপরেও একসাতথে হওয়ার উদ্দেশ্য, দেখো আমাদের ইউনিটি। আমরা সকলে এক আছি, এমরাই সবচেয়ে শক্তিধর।

জর্জিয়া মেলোনি, মোদি যার সাথে ছবি তুলতে পারলে জীবন সার্থক মনে করেন, তার দেশ ইতালি- বিশ্ব রাজনীতিতে শেষ কবে এই দেশটার কোন নাম শোনা গেছে! একটা সময় ফুটবলের কারণে শোনা যেত এখন সেটাও নেই। শুধু পোপটা মরে গিয়ে রোমের সাথে কয়েকবার ইতালির নামটা উচ্চারিত হয়েছে। আর শেক্সপিয়ার পড়লে ভেনিস চলে আসে, ইতালি নামটা তখন মনে পড়ে। একটা সময় বিজেপি যখন সোনিয়া গান্ধীকে ব্যাওক্তি আক্রমণ করত, ইতালি নামটা শোনা যেতো। নতুবা এরা এখন এদের কোনো গননাতেই ধরা যায় না

ফ্রান্সের নামটা গত সপ্তাহে ফাইরাল হয়েছিল তাদের প্রেসিডেন্ট বউ এর হাতে চড় বা ধাক্কা খেয়ে। তার আগে ফ্রান্সের নাম শোনা গিয়েচছিল ইব্রাহিম ট্রাওরের কারনে। তারও আগে আমাদের দেশে ফ্রান্সের নাম শনা যায় মদিজির দৌলতে, UPA সরকারের দড় করা রাফাল বিমান ৩ গুন বেশি দাম দিয়ে কিনেছে বলে। আত্নর্জাতিক রাজনীতিতে ওঁলাদের তেমন কোনো গুরুত্ব ছিলোনা, ম্যাক্রো তো স্পাইন লেস। ত্যাটোতে আঁছে কিন্তু রাশিয়ার পন্থী একধরনের। শোষন আর লুটঠপাঠ না করতে পারলে তথা আফ্রিকার সাপ্লাইলাইন বন্দধ হয়ে গেলে, ফ্রান্স আর লিথুয়ানিয়ার কোনো ফারাক থাকবে ধারে ভারে।

ব্রিটেন, বুড়ো সিংহ। এককালে অর্ধেক পৃথিবী জুড়ে লুন্টন চালিয়েছে একতরফা। বেকারত্ব চরমে। নেতৃত্ব নেই। পৃতথিবীর অদধিকাংস চোর যারা নিজ দেশের ব্যাঙ্ক লুঠে এসেচছে, তাদের জাইগা দেয়। গোটা ইকোনমিটা চলে কমনওয়েলতথ এর মানুষজন দিয়ে।

নোবেল প্রতি বছর দেয়, রাশিয়া, চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়া কখনও এতে যোগ দেয়না। তাহলে কী তাদের দেশে বিজ্ঞানী নেই! আসলে ওরা এই পশ্চিমা সিস্টেমকে পাত্তাই দেয়না।

 

মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫

ফুটেজখোর ট্রাম্প



ট্রাম্প হচ্ছে আমেরিকার রাখী সাওয়ন্ত বা কঙ্গনা রানাওয়াত। ফুটেজ খাওয়ার জন্য যা খুশি আলবাল বলে দেয়। যেকোনো মূল্যে প্রতি ঘন্টার হেডলাইনে যেন তার নাম থাকে। তার যে শত্রু, সেই লোকের ততটা সমস্যা নেই, যতটা বিপদ বন্ধু হলে। কখন যে বন্ধুর ইজ্জতের নিলামি চড়িয়ে দেবে তা ধরতে পারবেননা। গতরাত্রে ইঁমানুয়েল ম্যাঁকো সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝেছে।


মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বের নিরিখে- মমতা বাদে তৃণমূল দলের পদাধিকারীদের যতটা গুরুত্ব, কিম্বা বিজেপিতে জেপি নাড্ডার যতটা গুরুত্ব - মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পও তাই। ল্যাম্পপোস্ট। ট্রাম্প হচ্ছে ফাটাকেষ্ট, খবর দেখেনা, খবর পড়েনা- খবর তৈরি করে।

ওদিকে ইরাণের খামেইনি শাসকেরা কী ধোয়া তুলসীপাতা? মোটেও তা নয়, তাদেরও কুকীর্তির শেষ নেই। তারপরেও সে যখন মানবতার শত্রু দখলদার হিজরায়েলের বিরুদ্ধে একদম সামনের সারিতে, সেখানে ইরাণকে সাপোর্ট করা মানবিক দায়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ গত ৪৬ বছর ধরে ইরাণের ধোপা-নাপিত বন্ধ করে একঘরে করে রেখেছে আন্তর্জাতিক ভাবে। যত ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ দেওয়া সম্ভব, সবটা দিয়েছে। সমস্ত ধরনের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা - চালিয়েছে। তার পরেও ইরাণ কিন্তু বুক চিতিয়ে এখনও ক্রিজে টিকে আছে।

খামেইনির ইরাণ- কার্টার, রেগন, কশাই বাপবেটা বুশ, শয়তান ওবামা ও যুদ্ধবাজ যায়োনিষ্ট বাইডেনকে দেখেছে, সয়েছে। সোভিয়েতের পতনের পর রাশিয়া-চীন জোড়া উত্থানের আগে অবধি অর্থাৎ নব্বই এর দশকের শেষ থেকে পরবর্তী প্রায় দেড় দশকের আমেরিকার মত একচ্ছত্র ক্ষমতাবান আমেরিকা- ইতিহাসে কখনও ছিলোনা। ইরান সেই পিরিয়ড সয়েও টিকে রয়েছে। শুধু টিকেই নয়- তারা যে অর্থনৈতিক ও সামরিক ভাবে ঈর্শনীয় সক্ষমতা হাসিল করেছে- গত চার রাত ধরে গোটা বিশ্ব তার সাক্ষী

সুতরাং, উন্মাদ ট্রাম্প কিছু একটা হেগেছে মুখ দিয়ে, মানেই ইরান পেচ্ছাপ করে ফেলবে এমনটা নয়। এটা নার্ভের লড়াই, আরো কিছুদিন চলবে। খোদ আমেরিকাতেই যায়োনিষ্ট ছাড়া সকলে যুদ্ধ বিরোধী। হিজরায়েলের জন্য আর তারা যুদ্ধে জড়াতে চায়না। যুদ্ধবাজ কুত্তানিয়াহুর অহঙ্কার দম্ভকে টিকিয়ে রাখতে আর মার্কিন নাগরিকেরা তাদের সন্তানের কফিনবন্দী লাশ দেখতে চায়না। তারা বলছে আমেরিকা ফার্স্ট স্লোগান দিয়ে ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছিল, হিজরায়েল ফার্স্ট নয়। মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন, মেগ BiBi গ্রেট এগেন দাবী ছিলোনা।

অবশ্যই যুদ্ধ সক্ষমতায় আমেরিকা এগিয়ে, কিন্তু মানসিক কঠোরতা আর দাঁত চেপে টিকে থাকার লড়াইতে ইরাণ অনেক অনেক কদম এগিয়ে। পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস আমেরিকার আছে, মাত্র ৪ বছর আগেই আফগানিস্তান থাকে পালিয়ে এসেছিল। চরম স্বার্থপরেরা কারো বন্ধু হয়না। ইতিহাস বলছে পারস্য কখনও পরাধীন হয়নি, আমেরিকা কখনও কোনো যুদ্ধ জেতেনি।

বাকিটা অদূর ভবিষ্যৎ ই জবাব দিয়ে দেবে।

সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫

গাজায় জেনোসাইড



মানবতার দোহায় দিয়ে গত ৭৭ বছরে লক্ষ লক্ষ মানুষকে নির্বিচারে খুন করেছে হিজরায়েল। ফিলিস্তিনি ভূমি জবরদখল করে সেটলার বসিয়েছে। অমানবিক অত্যাচারকে এন্টারটেইনমেন্ট বানিয়েছে। পোষ্য মিডিয়া দিয়ে মহান সেজেছে।

ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেনে অটোমেটিক মেশিনগান থেকে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। এসিড বৃষ্টি করিয়েছে। ক্লাস্টার বোমা ফাটিয়েছে। বেছে বেছে ইস্কুল, হাসপাতাল, পানীয় জলের পরিসেবা, বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় জরুরী পরিসেবার স্থানে টার্গেট করে সেগুলোকে ধংস করে সাফল্যের সাথে সেটা বিশ্বকে দেখিয়েছে।



গাজায় জেনোসাইড হলোকাস্ট চালিয়েছে। তাদের সেনারা সেই বধ্য গোরস্থানে উল্লাসের নৃত্য করে সেটাকে গর্বের সাথে টিকটকে ছেড়েছে গোটা দুনিয়াকে দেখাবার জন্য। পশ্চিমা মিডিয়া এখানে কোনো অন্যায় খুঁজে পায়নি।

অনাহার, অপুষ্টিতে ভোগা রোগা দুর্বল শিশুরা ধুঁকে ধুঁকে মরেছে, হারামি বেশ্যার বাচ্চা মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লা রাজার দলের সাথে, পশ্চিমারা হলিউডি মুভি সিনের মত, লাইভ ম্যাচ দেখার মত এঞ্জয় করেছে ফিলিস্তিনের উপরে হওয়া অন্যায় অত্যাচার।



ইরাণের এই আত্মরক্ষামূলক আক্রমণ, এই অবৈধ সেটলারেরা অন্তত ৩টে প্রজন্ম ভুলতে পারবেনা, অধিকাংশই ট্রমাগ্রস্থ। তারা আয়েসের বিলাসী জীবন যাপনে অভ্যস্ত। আজ নিজেদের বাচ্চাদের নিয়ে গর্তে বাস করতে করতে অনুভব করছে - এতোদিন এই পাপটাই তারা করে এসেছে।

অনেকের মধ্যে এখন ইসরাইল শিশু হত্যার বিরুদ্ধে ভয়ংকর পরিমাণ মানবিক বোধ জাগ্রত হয়েছে। বুক মুচরে উঠে হাহাকার বের হচ্ছে!

গত ৭৭ বছর ধরে আপনারা যুদ্ধ নয় শান্তি চাই করে গেছেন, তাতে আমেরিকা যুদ্ধ থামিয়েছে? নাকি ইসরাইল তার দখলদারী অগ্রসন থামিয়েছে। আজকে চার রাত ইরান হামলা করায়, সেই চারদিন গাজায় হামলা বন্ধ রয়েছে।

আতঙ্কের ঘরে আতঙ্ক না ঢোকালে শুধুমাত্র শান্তি চাই গান গেয়ে কীর্তন করলে যুদ্ধ থামবে না। যুদ্ধ দিয়েই যুদ্ধ থামাতে হয়। ইরান সেটাই করছে।



ইরাণ এখন যেটা করছে এটা অনিন্দ্য সুন্দর শৈল্পিক কাজ যা সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার কল্পনার বাইরে, তারা হতচকিত বাকরুদ্ধ প্রায়। এটাই ন্যাচারাল জাস্টিস।

আর এসব দেখে যদি "আহারে, নিরীহ নাগরিক মারা যাচ্ছে হিজরায়েলে" জাতীয় শোক উথলে উঠে- আপনিও একটা ফুটফুটে বেজন্মা চুতিয়া।

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...