শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১

ফিলিস্তিন ২০২১- পর্ব- 4



পর্ব- 4

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিচার করলে দেখা যাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রগুলির কৌশলগত মিত্রের যে জায়গা দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাতে পূর্বতন ভারত তৈরি করতে পেরেছিল, সেই জায়গা থেকে এক প্রকার বিতাড়িত হয়ে গেছে মোদীজির সুযোগ্য নেতৃত্ব গুণে। যথারীতি সেই শূন্যস্থানগুলো তুরস্ক এবং চিন ভাগাভাগি করে দ্রুত দখল করে নিয়েছে। মোদী সরকার কাশ্মীরকে জনবিচ্ছন্ন করতেই ব্যস্ত, বাংলাকে ৩টে খণ্ডে ভাগ করতেই বেশি মনোযোগী। পড়শি হিসাবে তার একমাত্র টার্গেট পাকিস্তান বর্ডার, কারন ভোটে জিততে একেই দরকার।
সৌদির সঙ্গে মোদীর অতিরিক্ত মাখামাখি সম্পর্কের ফলে ভারত এমনিতেই ইরানকে হারিয়েছে, তাই সস্তার অশোধিত পেট্রপন্য আর পায়না আমরা, এখন সৌদি জোটের সাথেও আমাদের সম্পর্ক তলানিতে। পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামাদামি কারণেই সৌদি যুবরাজের সাথে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বেশ কয়েকবার মনোমালিন্য সংবাদ শিরোনামে এসেছে ২০২১ সালে।
বছর চারেক আগে, সৌদির সাথে একটা সামরিক চুক্তি স্থাপন করেছিল মোদীর বিদেশমন্ত্রক। এর পরেই মোদীর একের পর এক মাস্টারস্ট্রেকের কারনে দেশের অর্থনীতির পাতাল প্রবেশ ঘটেছে। লকডাউন পীড়িত ভারতীয় অর্থনীতির মাজা ভাঙা দশাতে- সৌদির সাথে সামরিক সম্পর্ককে অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করে দিয়েছে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক- আর এতেই নিরেটমুর্খ আয়াশপ্রিয় সৌদি যুবরাজ ক্ষেপে গেছে। সুতরাং, এই সম্পর্ক যে মোদীর রাজত্ব আর জোড়া লাগবেনা সেটা বলাই বাহুল্য। ফলত দর্শক ছাড়া মধ্যপ্রাচীয় রাজনীতিতে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, মোদীজির চরম অদুরদর্শীতার কারনে আজ আমরা অপাংক্তেয় হয়ে গেছি আন্তর্জাতিক পরিসরে।
ওদিকে সামান্য হামাসের সাথে লড়তে গিয়েই ইজরায়েল নাকানিচুবানি খেয়ে সাদা পতাকা দেখিয়ে এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছে; যে হামাসের না রয়েছে আধুনিক অস্ত্র না রয়েছে উন্নত প্রশিক্ষন প্রাপ্ত সেনাবহর। এই ইজরায়েল আসলে একটা ‘সাদা হাতি’ তা আর নতুনকরে বলার অপেক্ষা রাখেনা। এদিকে এই প্রথম তারা আমেরিকা বা ইউরোপ থেকে কোনও সাহায্য পেলনা তারা। কেন পেলনা? নেতৃত্বের সঙ্কটে ভোগা গোটা ইউরোপ প্রথমত করোনাতে কাবু, দ্বিতীয়ত তাদের অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যার দরুন নিজেদের দেশেই যথেষ্ট চাপে রয়েছে সরকার গুলো। চিনের অগ্রাসনের ফলে আফ্রিকা ও এশিয়ার বাজারে তারা প্রায় হারিয়ে গেছে, দেশের উৎপাদন শিল্প ধুঁকছে। প্যারিসের রাস্তায় প্রায় ৪০০০ অমুসলিম মানুষ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিছিল করেছে যা ভীষণভাবে আশ্চর্য করেছে ফরাসি সরকার সহ ইজরায়েল দরদী বিশ্বকে। স্বভাবতই নতুন করে অন্যের ঘরের অশান্তিতে কেউ যেচে পা বাড়ায়নি তথা সেই ক্ষমতাও ছিলনা।
বর্তমান মার্কিন রাজনীতিতে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, তাদের কংগ্রেস ও সেনেট সদস্যের ২৩% হিস্প্যানিক, আফ্রিকান, এশিয়ান, যা ২০ বছর আগে ছিল ৭% মত। গত দশক পর্যন্ত কংগ্রেস ও সেনেটে ইহুদি সদস্য ছিল ৩৫% এর কাছাকাছি, মার্কিন বুরোক্রেসিতে ৫০% এর বেশি শীর্ষপদে ইহুদিরাই থাকত। বর্তমান কংগ্রেস ও সেনেটে ইহুদি ৪%, বুরোক্রেসিতে মাত্র ১১%। ঠিক কী কারনে মার্কিনিদের প্রচলিত ইজরায়েল প্রীতিতে প্রকাশ্য ব্যাতিক্রম এসেছে সেটা উপরের পরিসংখ্যান থেকে সহজে অনুমেয়।
বাম ঘেঁষা প্রবীণ মার্কিন সেনেটর বার্ণি স্যান্ডার্স সহ অন্যান্য প্রগতিশীল সেনেটর ও কংগ্রেস সদস্যেরা মিলে- ২০১৬ সালে ওমাবা প্রশাসনের করা, ইজরায়েলকে বার্ষিক ৩৮০০ কোটি ডলার আর্থিক অনুদান প্রক্রিয়াটি চিরতরে বন্ধের জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। পাশাপাশি বিগত ৫ বছরে এই বিপুল অনুদান ইজরায়েল কোন কোন খাতে খরচা করেছে তার পুর্নাঙ্গ হিসাব চেয়েছে ইজরায়েল ও মার্কিন প্রশাসনের কাছে। বস্তুত, নব্য প্রগতিশীল আইনপ্রণেতাদের চাপে একপ্রকার বাধ্য হয়ে জো বাইডেন গাজা পুনর্গঠন, ফিলিস্তিন জনগণের অধিকার ও দ্বি-রাষ্ট্র গঠনের গল্প ফেঁদেছে।
এদের কারনেই তীব্র ব্যাক্তি ইচ্ছাকে দমন করে ‘ঘোষিত জায়োনিষ্ট বাইডেন’ ইজরায়েলকে কোনো সহায়তা দিতে পারেনি। শুধু তাই নয়, সেনেটের চাপে মার্কিন বিদেশসচিব ‘এন্থনি ব্লিঙ্কন’কে তড়িঘড়ি জেরুজালেম পাঠিয়ে দিয়েছে। ২৫শে মে ৪ দিনের মধ্যপ্রাচ্য সফরে এসে হাজির হয়ে, প্রথম দিনেই জেরুজালেমে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহুকে পাশে রেখেই ঘোষণা দিয়েছে- ‘আমরা ফিলিস্তিনিদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে সূচনা করতে এসেছি’। মনে বিষ থাকলেও তা হজম করতে হচ্ছে মার্কিন প্রশাসনকে। সফরের বাকি ৩টে দিনের একদিন পশ্চিম তীরের ‘রামাল্লা’য় ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করবে, অন্য দু’দিন জর্ডন ও লেবানন সফর করবে। অর্থাৎ বর্তমান মার্কিন নীতি হলো- ভারসাম্য বজায় রেখে এই অস্ত্রবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদী করাই একমাত্র লক্ষ্য। আগামীতে ইজরায়েল কিন্তু মার্কিন ছত্রছায়া থেকে বেড়িয়ে আসার চেষ্টাতে থাকবে। ইজরায়েল বিনা শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, এটা যদি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বড় জয় হিসাবে দেখা হয়, তাহলে দীর্ঘ সাত দশকের ইতিহাসে ইজরায়েলের জন্য এটা চরম লজ্জাজনক ও অপমানকর পরাজয়।
ইজরায়েল এই অপমানের বদলা নেওয়া শুরু করেছে নিজ দেশের মধ্যে বাস করা সেমেটিকদের উপরে অকথ্য অত্যাচারের মাধ্যমে। শেষ ১ সপ্তাহে ১৬০০ এর কাছাকাছি অ-ইহুদি ইজরায়েলি জনগণকে মারধর করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ভরে দিয়েছে। প্রসঙ্গত ইজরায়েলের ৮০% অধিবাসী ইউরোপীয় খাজার বংশদ্ভুত হলেও ২০% সেমেটিক ফিলিস্তিনি জনগষ্ঠীরই- যারা গাজা বা ওয়েষ্টব্যাঙ্কের ফিলিস্থিত রাষ্ট্রে না গিয়ে ইজরায়েলেই রয়ে গেছে। ইজরায়েল এখন তাদেরও উচ্ছেদ করে ফিলিস্তিন মুক্ত ‘ইজরায়েল রাষ্ট্র’ গঠন করতে চায়। হামাসের মুখপাত্র জানিয়েছে- এটাও একধরণের যুদ্ধ ঘোষণা, আমরাও পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছি, এমন অন্যায় অত্যাচার আমরা বসে বসে দেখবনা।
ইরানের মত একটা ছোট্ট ও সীমিত ক্ষমতাশালী দেশের উপর হাজার রকম ‘অবরোধ’ দিয়েও মার্কিনীরা আজ পর্যন্ত ইরানের ওপর কোন প্রকাশ্য হামলা করতে পারেনি, কারণ এরা যদি ইরানের ওপর হামলা করে- ইরানও সাথে সাথে মার্কিনিদের ব্যাথার ওপর হামলা করবে। এর ফলে ‘মৃত সাগর’ পেরিয়ে যে পরিমান রকেট গিয়ে আছড়ে পড়বে- তা আটকানোর ক্ষমতা আয়রন ডোম কেন, গোল্ডেন ডোম থাকলেও তার নেই। এই কারনেই পারতপক্ষে এরা ইরানকে ঘাঁটায় না, ওই হুমকি-ধামকি, কিছু গুপ্তহত্যা আর অবরোধের মাঝেই বীরত্ব সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য হয়। উল্টে ইরান আফ্রিকাতে নিজেদের অবস্থান অনেকটা শক্ত করেছে চিকিৎসা কুটনীতি দিয়ে। কাতার, তুরস্ক ও রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক এতটাই ভাল করে ফেলেছে যে এখন চাইলেই আর আমেরিকা ইচ্ছামত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেনা। উল্টে গত সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েছে তারা আর তাদের পরমাণু কার্যকলাপ সম্বন্ধে কোনো তথ্য দেবেনা বিশ্বকে, যদিনা আমেরিকা তাদের উপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়। সুতরাং সব দিক থেকেই পরিস্থিতি জটিল আমেরিকার জন্য।
ইজরায়েল ও তাদের জায়নিষ্ট ছত্রাকেরা কিন্তু সহজে হার মানবেনা। হামাসকে বদনাম করতে ২৪শে মে তারিখে বেলারুশের একটা বিমানে মিথ্যা হুমকি চিঠি দেয় কেউ, বেলারুশ সরকার সেই বিমানকে মাঝ আকাশ থেকে নামিয়ে এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে। এর ফলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেলারুশকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে, অর্থাৎ সাজঘরে বড় মঞ্চের রিহার্সাল কিন্তু থেমে নেই।
সেই বাইডেনই এখন মার্কিন রাষ্ট্রপতি, যার প্রকাশ্য উদ্যোগে ২০১৬ সালে তুরস্কে এরদয়ানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছিল, আবারও সেই চেষ্টা করবেই- এমনকি সাময়িকভাবে তুরস্ক হাতছাড়া হলেও আশ্চর্যের কিছু নেই- কারন লুসার্ণ চুক্তি উত্তর তুরস্ককে থামাতে এটাই একমাত্র পন্থা। রাশিয়া এক্ষেত্রে তুরস্কের পাশে দাড়াবেনা, কারন তুরস্ক রাশিয়াকে অগ্রাহ্য করে ইউক্রেনের সাথে সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে যা রাশিয়ার জন্য এক বিশাল হুমকি।
আমেরিকা যদি ইহুদিদের সাহায্য না করে, সেক্ষেত্রে মার্কিন মুলুকেও আভ্যন্তরীণ অশান্তি বাঁধিয়ে দেবে ইজরায়েল, তারা এই একটা কাজেই পারদর্শী। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কতদিন যুক্ত থাকবে সেটাই বড় প্রশ্ন। অন্যদিকে ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটেন কিন্তু নতুন করে আবার আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পদার্পন করার ঘোষণা দিয়েছে, তারাও চাইবে বিশ্বজোড়া মার্কিন দাদাগিরি কিছুটা কমুক, যাতে জেরুজালেমে আবার তারা এন্ট্রি নিতে পারে অনায়াসে। সুতরাং আগামী বিশ্বের রাজনৈতিক ভরকেন্দ্রের পরিবর্তন যে অবশ্যম্ভাবী সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিশরে ব্রাদারহুড আবার সক্রিয় হচ্ছে, তাদেরকে ইথিওপিয়া ও সুদানের সাথে লড়িয়ে দিয়ে পারে পুরাতন খেলোয়ার MI-6। মোসাদ বাহিনী লেবাননের বৈরুতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদেরকে এমনিতেই একঘরে করে দিয়েছে, এবারে MI-6 এর সাথে মিলে গুপ্তভাবে ক্ষতির চেষ্টার ত্রুটি রাখবেনা। MI-6 মানেই পুরাতন শোধ নেবার পালা। সৌদিও কয়েকখন্ডে ভেঙে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে মক্কাকে কেন্দ্র করে নতুন দেশ গঠন করতে পারে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। আফগানিস্তান, পাকিস্থান সহ ভারত, বাংলাদেশ ও মায়ানমারেও ব্রিটেন কিন্তু গুঁতিয়ে ঢুকে আসবেই। সব মিলিয়ে যেদিকে যা ই হোক, আগামী দশকগুলোতে জেরুজালেম কিন্তু সংবাদ শিরোনামে থাকবেই।
বর্তমান আপডেট হচ্ছে- ইজরায়েল গাজায় মোটেই সুবিধা করতে না পেরে আল-আকসা মসজিদ চত্বরে নিরস্ত্র মুসলমান মুসল্লিদের উপরে মসজিদে হামলা শুরু করেছে বা বজায় রেখেছে বলা যেতে পারে। গত ২৩শে মে রোববার, বিপুল অস্ত্রে সজ্জিত ইজরায়েল পুলিশ ৬ জনকে এরেষ্ট করে ও আরো কয়েকজনকে মারধর করে। পরদিন এক রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে তারা ঘোষণা দিয়েছে ৪৫ বছরের নিচে কোন মুসলমানকে আকসা মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি দেবে না তথা টেম্পল মাউন্ট চত্বরে ঢোকারই অনুমতি দেবেনা- অর্থাৎ এলাকাটা ইজরায়েলের একার পৈতৃক সম্পত্তি। বিষয়টি মুসলিম ওয়াকফ বোর্ড মোটেই মানতে রাজি হয়নি সুতরাং অশান্তিতে শেষ হয়েও যে হবে না' তা বলাই বাহুল্য
ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী ২৪শে মে এক সরকারি বিবৃতিতে নতুন ডায়লগ বাজি শুরু করেছে- হামাসের নেতাদের সবাইকে আমরা হত্যা করব ইত্যাদি ইত্যাদি। এর পাল্টা হিসেবে সোমবার জোহরের নামাজের পর গাজার রাজপথে হামাসের অন্তত ৩০০ সশস্ত্র সদস্য, অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতীকী প্যারেড করে ইসরাইলকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছে- তোমরা যদি আবার অগ্রাসন চালাও, আমরাও বসে থাকবনা।
এর ফাঁকে আসলে ইজরায়েলের মিথ্যাটা ধরা পরে গেছে এবং কার্যত ফিলিস্তিনিদের কাছে ভিক্ষা চাইছে বলেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। গাজা পুনর্দখলের কথা না বলে ইজরায়েলী অর্থমন্ত্রী ‘ইস্রায়েল কার্টজ’- গাজা পূনর্বাসনের প্রস্তাব দিয়েছে, বিনিময় দেড়শোর অধিক ইসরাইলি সেনা যারা গাজায় নিখোঁজ হয়েছিল, রয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হবে; অর্থাৎ একে একে ঝুলির বিড়াল বের হচ্ছে। বিপুল পরিমাণে ক্যাজুয়ালিটি যা ইসরাইলের তরফে ঢেকে রাখা হয়েছিল তা প্রকাশ্যে আসতে শুরু হয়েছে।
পৃথিবীর সবচেয়ে গোঁড়া জাতি ইহুদিবাদী ইজরায়ায়েল পার্মানেন্টলি গোল্ডেন টেম্পলের অধিকার ছেড়ে দেবেনা। যদিও অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা আছে- সোনালী গম্বুজের স্থাপত্যটাই বোধহয় ‘আল-আকসা’ মসজিদ, কিন্তু তা হয়। ইহুদিদের উপাসনাস্থল সোনালী গম্বুজের ৫০ ফুট দূরত্বে অপেক্ষাকৃত ছোট আর নিচু একটা রুপালী গম্বুজের স্থাপত্য রয়েছে, সেটাই মুসলমানেদের উপাসনাস্থল। তার পরেও এসব এলাকাতে তারা ইচ্ছাকৃত অশান্তি বাঁধিয়ে রাখে গোটা ‘টেম্পল মাউন্ট’ এলাকাটা কুক্ষিগত করার জন্য। টেম্পল মাউন্টের কী হবে তা আগামী বলবে, কিন্তু যা হবে তা বিশ্বের মানব জাতির পক্ষে যে খুব একটা সুখকর হবে না সেটা বলাই বাহুল্য। সুতরাং অদূর ভবিষ্যতে যদি আমরা আরও একটা বিশ্বযুদ্ধের সম্মুখীন হই তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

রেড ভলেন্টিয়ার্স- সাফল্যকথা (Part-3)


 

কী ভেবেছিলেন, আমি গণসংগঠনের শত্রু?

সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ্যে লিখে কোনো কাজ হয় না?

এখন কী প্রমাণ হচ্ছে!

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার লেখা অধিকাংশ দাবী- অক্ষরে অক্ষরে মেনে নিয়েছে দল


আসলে চামচাবাজিটা শিখিনি, তাই মেরুদণ্ডটা সোজা আছে। মগজটাও বন্ধক দিইনি, তাই বিকল্প ভাবার মুরোদ আছে। অনেকেই ভাবে- “আমি ‘পার্টি সদস্য’ তাই ‘আমার’ একগাছা লোমশ লেঙুড় রয়েছে, যেটা তোমাদের চেয়ে আমাকে অনেক উচ্চতর আসনে রেখেছে”- এমন ভোঁদড় মার্কা ভাবনাজীবীদের জন্য একগামলা করুণা রইলো

ঠাণ্ডা ঘরে বসে কম্পিউটার স্ক্রল করতে নেমে আমার প্রস্তাবগুলো তাই তেঁতো লেগেছিল। অযোগ্য ধামাধরাদের তেঁতো না লাগলে বরং বেশিই আশ্চর্য হতাম। অযোগ্য ব্যর্থ হয়েও শুধু বাপের দয়ার টিকে থাকা প্যারাসাইটদের, আমার প্রেসক্রিপশনে এলার্জি হওয়াটা স্বাভাবিক

পার্টি সদস্যেরা নাহয় পার্টির ভিতরে বলবে, সমর্থকেরা কোথায় বলবে? বললে শুনবেটা কে? পার্টিসদস্যের নিচুতলার কথাই কি শোনা হয় অদৌ? অতএব সোশ্যাল মিডিয়া জিন্দাবাদ, মুমূর্ষু রোগীর লজ্জাস্থান লুকাবার দায় থাকেতে নেই। যেহেতু প্রাপ্তির লোভ নেই, তাই হারাবার ভয় থেকেও মুক্ত সমর্থকেরা। ‘ফোরাম অফ এ্যাপ্লিকেশনের’ গল্প ফেঁদে পার্টি সদস্যপদ বাঁচাবার জন্য যদি- ‘ভুল হচ্ছে’ কিম্বা ‘এভাবে করা উচিৎ’ এই সামান্য কথা দুটো বাক্য বলতে না পারি, ধিক এই শৃঙ্খলাতে। পার্টি বাঁচলে তো সদস্য পদের গুরুত্ব। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে থাকা বারে বারে ব্যর্থ নেতারা উপরোক্ত শৃঙ্খলা দিয়েই পদে আসিন রয়েছে নির্লজ্জ নিকৃষ্টতায়। টুইটারে এক ছাত্র নেতা আবার লিখেছে- ‘জিরোরা জিরোয়না’, নতুন আইডিয়া তো কিছু নেই- তাই জিরোর সুখেই অর্গাজম হয়ে যাচ্ছে এদের মত কারো কারো

সঠিক কথা সঠিক সময়ে বলেছিলাম বলেই হয়ত অনেক ক্ষয়ক্ষতি আঁটকে দেওয়া গেছে। গোটা সিস্টেমে একটা ছন্দবদ্ধ রূপ এসেছে, অনেক বেশি গঠনমূলক হয়েছে। অনেকেই ভেবেছিলেন আমি আমার কলম দিয়ে বেশিরভাগ মানুষের মনের কথাটা বলে ফেলেছিলাম, অবশ্যই সময়ের আগে। আসলে মাটিতে ছিলাম, মাটিতে আছি, আর মাটিতেই থাকব, কারণ আমি মাটির গন্ধ পাই। তাই মাটিতে দাঁড়িয়ে বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে ভাবতে পারি, সিদ্ধান্ত নিতে পারি, যা ভাবছি সেইটা লিখতেও পারি৷ এ লেখা আঁতলামো নয়, সহজবোধ্য- তাই আমার লেখা সফল

আমার প্রকাশ্য পোস্টে গালাগালি, হ্যাটা, নাম ধরে খিস্তি, বডি সেমিং, ফেক প্রোফাইল থেকে পরিবার নিয়ে খেউর, ইনবক্সে হুমকি আর গোপনে ‘ওর পোস্টে যাবে না’ মার্কা হরেক আলোচনার অন্ত ছিল না। পার্টি তথা সংগঠনের ক্ষতি করছি বদনাম দেওয়া, গোষ্ঠী কোন্দল উসকে দেওয়ার দুর্নাম, গ্রুপ বানিয়ে পোস্টে লাইক কমেন্ট না দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা ইত্যাদি অনেক কিছু হয়েছে- আমি তাদের বিন্দুমাত্র পাত্তা দিইনা, কারণ খেটেখুঁটে লিখতে মেধা আর পড়াশোনা প্রয়োজন যা ওদের নেই, ওরা কেউ বাপ ধরে এসেছে নতুবা সেই বাপ ধরাদের পোষ্য পশ্চাদচাঁটাদের দল

আমি বাস্তবকে অস্বীকার করে যাইনি। এই বাস্তবতার জন্যই, প্রাসঙ্গিক দাবীগুলো মেনে নিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব। এটা আমাকে আগামীতে আরও বেশি বেশি লেখার জন্য বিপুল উৎসাহ দেবে। কেউ কেউ বলে- কটা শেয়ার হয়েছে কিম্বা কটা লাইক কমেন্ট হয়েছে! তাদের জন্য বলি- ‘১০টা লাইক পাওয়া লেখা যদি একটা ৫৭ বছরের দলে পুঙ্খানুপুঙ্খ ইমপ্লিমেন্ট হয়, তার কাছে সেই দলেরই সদস্যের ৫ হাজার জনের লাইকের কোনো মূল্য থাকেনা’? দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে এক্টিভ এমন নেতাদের অধিকাংশ জনই আমার ফ্রেন্ডলিষ্টে রয়েছেন স্বনামে-বেনামে, তাঁরা পড়লেই যথেষ্ট। আমার লেখা তাদের জন্য যাদের বোধবুদ্ধি ও বিচারজ্ঞান রয়েছে; উমেদার ও ভাঁড়েদের জন্য নয়

রেড ভলেন্টিয়ার্স নিয়ে এতদিনের প্রস্তাব আর ফলাফলগুলি বর্তমান অবস্থা কেমন হলো একবার চোখ বুলিয়ে নিন

১) রেড ভলেন্টিয়ারদের মধ্যে অধিকাংশর কোনো রকম ট্রেনিং নেই, এমনকি স্বাস্থ্য পরিষেবা বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই

প্রস্তাবঃ এদের উপযুক্ত ব্যক্তিদের অধীনে ট্রেনিং দিতে হবে৷

ফলাফলঃ ডক্টর অরুণ সিং সহ অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে ট্রেনিং শুরু হয়ে গেছে৷ বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা আর ট্রেনিং না থাকা রেড ভলেন্টিয়ার্সরা বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে কর্মক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বুঝতে পেরেছেন- আমার বক্তব্যের গুরুত্ব কতটা ছিল

২) শুধু মুখে মাস্কের নামে এক টুকরো কাপড় বেঁধে নয়। উপযুক্ত সুরক্ষা পোশাক তথা কিট পরে তবে সংক্রামক রোগীর কাছে যেতে হবে। নতুবা ভলেন্টিয়াররাই আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন, কিম্বা উপসর্গহীন রোগী হয়ে নিজেই করোনা ছড়াতে পারেন৷

প্রস্তাবঃ উপযুক্ত কিট পরে তবে সংক্রামক রোগীর কাছে যেতে হবে

ফলাফলঃ বেশিরভাগ অঞ্চলের রেড ভলেন্টিয়ার্সের অধিকাংশ জনই PPE কিট পরে রোগীর কাছে যাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করেছে৷ সমস্ত সচেতন নেতা-নেত্রী কিট পরে যাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন৷ সাধারণ মানুষ কিট ও সুরক্ষা সরঞ্জাম দেবার জন্য অনুদান দিচ্ছেন

৩) প্রতিটি রেড ভলেন্টিয়ার্স “যারা শুধুমাত্র রাস্তায় আছে” পার্টি নির্দিষ্টভাবে তাদেরকে অফিশিয়ালি স্বীকৃতি দিক

দাবীঃ প্রতিটি রেড ভলেন্টিয়ার্সকে সিরিয়াল নম্বর যুক্ত ‘আইডেন্টি কার্ড’ দিতে হবে

ফলাফলঃ অধিকাংশ স্থানেই এই কাজ চালু হয়েছে, পার্টির ছাত্র সংগঠনের এক নেত্রী নিজে সহ বহু তরুণ কর্মী যারা গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন- তাদের টাইমলাইনে ‘আই কার্ড’ এর ছবি পোস্ট করেছেন

৪) ইউনিসেফ, রেড ক্রশের স্বীকৃত ভলেন্টিয়ারিয়ারি সার্ভিসে থাকা সভ্যদের মোটা অঙ্কের ইনসুরেন্স করানো থাকে, যদি তারা আক্রান্ত হয় সেক্ষেত্রে ইনসুরেন্স কাজে আসে। রেড ভলেন্টিয়ার্সদের করানো হয়েছে কি?

প্রস্তাবঃ প্রতিটি রেড ভলেন্টিয়ার্সকে বিমা করিয়ে দিতে হবে

ফলাফলঃ ‘সিপিআইএম দেশপ্রিয় নগর এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের ১০ জন রেড ভলেন্টিয়ারকে ৫ লক্ষ টাকা করে মেডিক্লেইম করিয়ে দেওয়া হলো তাদের সুরক্ষার জন্য’। আমি ব্যক্তিগত ভাবে অভিনন্দন জানাই ওই নেতৃত্বদের

৫) এই বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা নিজেরা সংক্রমিত হয়ে গেলে এদের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করাবার কোনো পরিকল্পনা কে নেবে? পার্টি কি দায়িত্ব নিয়েছে?

প্রস্তাবঃ পার্টি দায়িত্ব নিক

ফলাফলঃ SFI DYFI এর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে প্রত্যেক রেড ভলেন্টিয়ারকে বিনামূল্যে টিকাকরনের জন্য। (যদিও আমি নিজে এই সিরাম ইন্সিটিটিউশনের টিকার মান নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান, এ নিয়েও আমার বিস্তারিত লেখা আছে)

৬) ফেসবুকে এই খয়রাতি শ্রমের স্বপক্ষে যারা ক্রমাগত লিখছেন- তাদের কজনের ছবি দেখেছেন রাস্তায় দৌড়াতে? শুধান- আপনি কয়টি স্থানে গেছেন? আপনার বাড়ির কতজন রেড ভলেন্টিয়ার্স । রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি দূরের কথা, এরিয়া কমিটির কতজন সিনিয়র সদস্যের ছেলেমেয়েরা রেড ভলেন্টিয়ার্স এর সাথে যুক্ত, যারা মাঠে নেমে সরাসরি করোনা রোগীদের ঘরে/বাড়িতে যাচ্ছেন! এবারে প্রশ্নটা নিজেকে করুন, উত্তর পেলে নিজের সন্তানকে কেন নামাননি সেই জবাবটা দেবেন দয়া করে

প্রস্তাবঃ নেতারা রাস্তায় নামুন, আপনাদের সন্তানকেও রেড ভলেন্টিয়ার্স হিসাবে নামিয়ে বাকিদের উৎসাহিত করুন

ফলাফলঃ কমরেড তাপস সিনহা, কমরেড তন্ময় ভট্টাচার্য, কমরেড দীপ্সিতা ধর, কমরেড নিহার ভক্ত সহ এমন অনেক নেতাই রাস্তায় নেমেছেন। কোলকাতা জেলা কমিটির এক নেতা অশোক ভাণ্ডারি তাঁর পুত্রের রেড ভলেন্টিয়ার্সের কার্ডটির ছবি দিয়েছেন গর্বের সাথে। এগুলো ভীষণ সাধু পদক্ষেপ। কিন্তু এটা এখনও সীমাবদ্ধভাবে রয়েছে, এটা আর বৃহত্তরভাবে ছড়াতে হবে

৭) দাবীঃ- গণসংগঠনকে রেড ভলেন্টিয়ারদের সহযোগিতা করতে হবে

ফলাফলঃ মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে, তারাও শীঘ্রই সামিল হবে

কিন্তু এখনও কয়েকটি দাবী আছে, যেগুলো পূরণ হয়নি। আশা করছি- সেই ক্ষেত্রগুলোতেও অবিলম্বে কাজ শুরু হবে

১) সমস্ত গ্রামাঞ্চলে রেড ভলেন্টিয়ার্স সার্ভিস পৌঁছে দিতে হবে

এখনও অবধি যারা ভলেন্টিয়ারি সার্ভিস দিয়েছে, কোলকাতা ও তার শহরতলীর বাইরে অন্য কর্পোরেশনগুলোতে মূলত মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তদের অক্সিজেন পৌঁছে দিয়েছে। জেলা সদর ও মফঃস্বলে মূলত ওষুধ, বাজারহাট তথা খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিয়েছে। আর গ্রামে সামান্য কয়েকটি স্থানে বাড়ি স্যানেটাইজ করার বাইরে মূলত মড়া পুড়িয়েছে

দাবীঃ এখনও ‘শ্রেণীর’ কাছে রেড ভলেন্টিয়ার্স সার্ভিস পৌঁছাতে পারেনি, এটা পৌঁছে দিতে হবে নানান আঙ্গিকে। পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলে রেড ভলেন্টিয়ারদের আরও দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। সামনে বর্ষা, গরীবের রোগবাগ বিপদ-আপদ বেশি হয়, এখানেই আসল পরীক্ষা রেড ভলেন্টিয়ারের

২) ভলেন্টিয়াররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, তারা যেকোনো সময় অসুস্থ হতেই পারে। এক-দু’জনের জীবনহানিও হয়েছে

দাবীঃ প্রতিটি মহকুমা হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, কোলকাতা, তৎসংলগ্ন শহরতলীর বড় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে কমপক্ষে ২-৫ টা পর্যন্ত বেড- ভলেন্টিয়ারদের জন্য স্পেশালি সংরক্ষণ করতে হবে

কোনো ভলেন্টিয়ারের জীবনহানী হলে সরকার থেকে কমপক্ষে কুড়ি লক্ষ টাকা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তার পরিবারের একজন সদস্যকে যেকোনো সরকারি দফতরে পার্মানেন্ট চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে হবে

৩) অধিকাংশ রেড ভলেন্টিয়ারই ছাত্রযুব, এরা প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষাতে বসে। অধিকাংশ পরীক্ষার ইন্টারভিউতে ‘extracurricular activities’ উপরে একটা নম্বর থাকে। এই কোভিড মহামারীকালে রাস্তায় থেকে মানুষের পাশে থাকার চেয়ে বড় extracurricular activities আর কী হতে পারে?

দাবীঃ সরকারকে সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হবে, যা সর্বভারতীয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে কাজে আসবে

৪) বিষয়টা থেকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লাভ নিতে হবে

দাবীঃ ABTA, মহিলা সমিতি ও লোকাল কমিটিকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত ডেটা কালেক্ট করে সেগুলো সেন্ট্রালি প্রিজার্ভ করে রাখা হোক। কারণ আমরা কেউ জানি না, রেড ভলেন্টিয়ার্সের সুবিধা আমাদের সিপিআইএমের কোনো নেতা বা তার পরিবার পেয়েছে? পেলেও কতজন পেয়েছে? অধিকাংশ বিজ্ঞাপনই তো অপরাজিতা আঢ্য, দেবের আত্মীয়, তৃণমূল ফেসবুক গ্রুপের এডমিন, বিজেপি নেতার বউ, তৃণমূল MLA এর আত্মীয়- এই সব তথ্য সামনে এসেছে। আসলে আমরা যাদের পরিষেবা তথা স্বেচ্ছাশ্রম দিলাম- তারা আসলে কারা! এদের মাঝে কতজন গরিব, কতজন মধ্যবিত্ত আর কতজন উচ্চবিত্ত, কতজন বাম সমর্থক ইত্যাদি

৫) টোল ফ্রি নম্বরঃ- রেড ভলেন্টিয়ার দের কার্যকারিতা এবং জনগণের সচেতনতা উদ্দেশ্যে মানুষের সাথে জনসংযোগ বাড়াবার প্রয়োজনে পার্টির তরফে টোল ফ্রি নম্বর আশু প্রয়োজন

৬) গ্রামে গ্রামে সচেতনতা শিবির গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ মানুষকে সরকারি পরিষেবা নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহী করে তুলতে হবে। এতে আমজনতা সরকারের কাছ থেকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা-ঔষধ এবং বিনা পয়সায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পাবে। সরকারি পরিষেবা ও স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আমাদের অধিকার, এটা কোনো দান নয়৷ এই অধিকার আমরা ভোটাধিকারের মাধ্যমে অর্জন করেছি- এই জিনিসটা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করতে হবে। পরিষেবায় ব্যাঘাত হলে সত্বর সচেতনতা শিবিরে যোগাযোগ করার কথা বলতে হবে অথবা ঐ ‘টোল ফ্রি নম্বরে’ অভিযোগ করতে হবে

বিশদে এই পোস্টে রয়েছে-

https://www.facebook.com/story.php?story_fbid=148739867222980&id=104624104967890

৭) পিরামিডের চূড়া থেকে পাদদেশ- সামান্য কয়েকজন নেতা সহ তাদের ছেলেপুলেরা রাস্তায় নামলেও, অধিকাংশ জন আজও রাস্তায় নামেনি। ঠাণ্ডা ঘরে ফোনের ওপারে আর ফেসবুকে বিপ্লব না করে, অবিলম্বে তারা রাস্তায় নেমে সাধারণ ছাত্রযুবদের পাশে দাঁড়াক। এদের সকলকে সচেতনতা শিবিরগুলোতে বসিয়ে দেওয়া হোক মহিলা সমিতির কমরেডদের সাথে। এরা রোজ পালা করে শিবিরে বসে এরিয়া কমিটি, রেড ভলেন্টিয়ার্স ও জনগণের সাথে সমন্বয় সাধন করুক

৮) দেশের প্রথম সরকার হিসাবে কেরালার বাম সরকার- মাস্ক, পিপিই কিট, গ্লাভস ইত্যাদি চিকিৎসা সামগ্রীর দাম সস্তা করে তা নির্দিষ্ট দামে বেঁধে দিয়েছে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই এর জন্য মানুষকে অর্থনৈতিক ভাবে সুরক্ষা দিতে পেরেছে। যেখানে আমাদের রাজ্য সরকার করোনাকালে সকল ধরনের কালোবাজারি রুখতে ব্যর্থ, মানুষ চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার। এ নিয়ে #keralamodel হ্যাশট্যাগ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে আন্দোলনের ঝড় উঠুক। রাস্তাতেও মানুষকে বোঝানো হোক

তারাই প্রশ্ন করতে ভয় পায়, যারা লড়াই না করে অসদুপায়ে পদে বসেছে কিম্বা পার্টির সদস্যপদ হাসিল করেছে- সেই সব এঁটোকাঁটাকে আমি ‘আবহাওয়া’ বিষয়ে আলাপের যোগ্যও মনে করি না, আপনিও সেটাই করুন যাতে দলের মঙ্গল। পার্টি ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য লড়াইটা চালিয়ে যান কমরেড- ভিতর থেকে হোক বা বাইরে থেকে


ইনকিলাব জিন্দাবাদ

#redvolunteer 


বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১

Save Lakshadweep

 


লাক্ষাদ্বীপ, ভারতের জীববৈচিত্র্যেোর দিক থেকে এক অমূল্য সম্পদ। মাত্র ৬০ হাজারের কিছু বেশি মানুষ এই দ্বীপরাজ্যে বসবাস করে যাদের অধিকাংশই গরিব মৎসজীবী। দেশের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন রাজ্য তথা টেরিটরি, ৯৬% নারীশিক্ষা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ, জন্মহার দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম এবং দেশের সবচেয়ে কম অপরাধপ্রবণ অঞ্চল। এমন একটা শান্তিপ্রিয় অঞ্চল প্রায় রাতারাতি নরকগুলজারে পরিণত হয়েছে


সৌজন্যে RSS পরিচালিত বিজেপি

বিজেপি সকল সময় এমন কিছু অদ্ভুত সমস্যা তৈরি করে, যাতে আপনার অন্নবস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি স্থানীয় মৌলিক চাহিদার দাবী ভুলে আপনি মেতে থাকবে কিছু ডেকোরেটেড সমস্যা নিয়ে, যেখানে বেঁচে থাকাটাই যেন আচ্ছে দিন বলে মনে হবে। ভেবে দেখুন বিজেপি তার সাত বছরের অপশাসনে ঠিক এই জিনিসটাই করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন যে সমস্যাটা তৈরি করেছে- তার নাম লাক্ষাদ্বীপ

লাক্ষাদ্বীপ দেশের ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের একটি, কেরালার মূল ভূ-খণ্ড মালাবার উপকূল থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। লাক্ষাদ্বীপে ১টি মাত্র জেলা রয়েছে, সেটিই একমাত্র লোকসভা আসন। লাক্ষাদ্বীপের রাজধানীর নাম কাভারাত্তি, সবচেয়ে বড় শহর এ্যান্ড্রট। অসংখ্য মৃত প্রবাল কীটের দেহাবশেষ সঞ্চিত হয়ে সমুদ্র মধ্যে এই দ্বীপসমূহের সৃষ্টি হয়েছে বলে এই দ্বীপপুঞ্জকে ‘প্রবাল দ্বীপ’ও বলা হয়ে থাকে। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপার্থিব চোখজুড়ানো, আর এটাতেই এখন পুঁজিবাদী হাঙরদের দৃষ্টি পড়েছে

হঠাৎ লাক্ষাদ্বীপ কেন শিরোনামে?

রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে, রাজ্যসভার CPIM সাংসদ ইলামারাম করিমের লেখা একটা চিঠিকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, যদিও গোদী মিডিয়া এটাকে ধামাচাপা দিয়েই রেখেছে। চিঠিতে রয়েছে, কীভাবে মোদী সরকার লাক্ষাদ্বীপে সাম্প্রদায়িক অশান্তির বীজ বপন করে সেখানের মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করছে ও তাদের উপরে অত্যাচারের স্টিম রোলার চালাচ্ছে। যাতে করে দ্বীপের অধিবাসীরা দ্বীপ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়

স্বাধীনতার পর থেকে দেশের সকল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে প্রশাসক হিসাবে IAS/IPS অফিসারদেরই নিয়োগ দেওয়া হতো, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় এসেই এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটায়। ‘দমন ও দিউ’ এর প্রশাসক হিসাবে গুজরাত বিজেপির নেতাকে প্রশাসক পদে নিযুক্ত করে, ২০১৬ সালে সেই ব্যক্তিকেই ‘দাদরা, নগর ও হাভেলির’ও প্রশাসক পদে বসিয়ে দেয় মোদী। নেতাটির নাম ‘প্রফুল্ল খোদা প্যাটেল’, RSS এর এই স্বয়ংসেবক এতটা মোদী-শাহ্ ঘনিষ্ঠ যে, অমিত শাহ যখন CBI এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল, তখন একে গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছিল

২০২০ সালের ৫ই ডিসেম্বর এই প্রফুল্ল প্যাটেলকেই লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক পদে নিযুক্ত করে ভারতের রাষ্ট্রপতি তথা মোদী। এমনিতেই এই সব কেন্দ্রশাসিত রাজ্যগুলোতে গণতন্ত্রের নিয়ম মেনে নিজেদের প্রশাসক বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই, কারণ এদের কোনো বিধানসভা নেই। এভাবেই ভারতের পশ্চিম তীরের সবকটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে কার্যত একজন গুজরাটি RSS নেতার হাতে তুলে দেওয়া সম্পন্ন হয়

অতঃপর দীর্ঘ ৬ মাসের প্রচেষ্টার দরুন লাক্ষাদ্বীপকে নরকে পরিণত করেছে মোদীর এই ঘনিষ্ঠ মিত্র

প্রফুল্ল প্যাটেল, লাক্ষাদ্বীপে এমন কিছু জনবিরোধী আইন লাগু করেছে সাদা চোখে যার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না। পাতি বাংলায় ১ লাইনে বললে যা দাঁড়ায়- ৯৭% মুসলিম অধ্যুষিত এই দ্বীপরাজ্যে কঠোর হিন্দুত্ববাদী আইন বলবৎ করেছে। যাতে মুসলমানগুলো উচ্ছেদ হয়ে যায়, আর সেই জমিতে সিলেক্টিভ গুজরাটি বেনিয়ারা হোটেল রিসর্ট বানাতে পারে


CPIM
সাংসদ, করিমের চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে- ‘রিফর্ম ও ডেভলপমেন্ট’ এর নাম করে দ্বীপজ মানুষের ঐতিহ্যবাহী যে সংস্কৃতি, তাকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে বিজেপি। এরই ধারাবাহিকতায় লাক্ষাদ্বীপের একমাত্র সাংসদ, NCP এর মহম্মদ ফয়জলও রাষ্ট্রপতিকে লেখা একটি চিঠিতে জানিয়েছেন- প্রশাসক প্রফুল্ল প্যাটেলের এই নীতির বিরোধিতা করার জন্য ৩০০ সরকারি কর্মীকে সাসপেন্ড তথা ছাঁটাই করা হয়েছে বিগত ৫ মাসে। এক কথায় নাগপুরের নির্দেশে চূড়ান্ত স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছে পুঁজিপতিদের চৌকিদার বেচুবাবুদের দল


কী আইন প্রণয়ন করেছে?

১) যেহেতু বিধানসভা নেই, তাই পঞ্চায়েতের হাতে- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পশুপালন ও মৎস দপ্তর পরিচালনের ভার ছিল, সেগুলো কেড়ে নিয়ে নিয়ে প্রশাসকের এক্তিয়ারে কুক্ষিগত করেছে প্যাটেল। স্থানীয় মানুষের হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে

২) যাদের দুটোর বেশি সন্তান আছে কিম্বা যারা তৃতীয় বা ততোধিক সন্তান- তারা নির্বাচনে লড়তে পারবে না। এর দ্বারা ৯৮% স্থানীয় নেতা-নেত্রীকে রাজনীতির ময়দান থেকে বাতিল করে দেওয়া গেছে। অথচ দেশের ৩০৩ জন বিজেপি MP এর মধ্যে ৯৬ জনেরই ৩টে সন্তান আছে

৩) ৯৭% মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলে গোমাংস নিষিদ্ধ করেছে, কেউ গোমাংস সমেত ধরা পড়লে তার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইন এনেছে। মালায়লি সংস্কৃতিতে সর্বধর্ম নির্বিশেষে গোমাংস বৈধ

৪) মদের উপরে এতদিন নানান রেস্ট্রিকশন ছিল দ্বীপরাজ্যটিতে, সেটা তুলে নিয়ে- মদ থেকে যাতে বেশি রাজস্ব আদায় হয় তার উপরে জোর প্রচুর বার খোলা হয়েছে, এবং মদ খেতে একপ্রকার বাধ্য করা হচ্ছে অবৈধভাবে স্থানীয় পুলিশকে ব্যবহার করে। প্রসঙ্গত মোদী তথা প্রফুল্ল প্যাটেলের নিজের রাজ্য গুজরাটে মদ নিষিদ্ধ

৫) সকল সরকারি অফিস সহ স্কুল-কলেজে সমস্ত ধরনের ‘ননভেজ’ খাদ্য আইন করে বন্ধ করে দিয়েছে। একটা দ্বীপরাজ্যে যেখানে সি-ফুডই তাদের মুখ্য খাদ্য- তারা সেই মাছটুকুও খেতে পারবে না

৬) ‘লাক্ষাদ্বীপ ডেভলপমেন্ট অথোরিটি রেগুলেশন অ্যাক্ট ২০২১ (LDAR)’ আইনের বলে দ্বীপের যে কোনো ব্যক্তিকে তার ভূমি থেকে উচ্ছেদ বা রিলোকেট করে দিতে পারবে সরকার, বিনা নোটিশে ও বিনা ক্ষতিপূরণে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মামলা পর্যন্ত করতে পারবে না

৭) ‘প্রিভেনশন অফ অ্যান্টিসোস্যাল অ্যাক্টিভিটিস (PASA)’ নামের একটা নতুন ‘গুণ্ডা আইন’ লাগু করেছে, যার দ্বারা সরকার যে কোনো ব্যক্তিকে জাস্ট হাপিস করে দিলেও, ব্যক্তিটির পরিবারকে ১ বছর পর্যন্ত জানাতে বাধ্য নয়- সেই ব্যক্তি কোথায় আছে বা তার অপরাধ কী? এই সময় সেই ব্যক্তি কোনো রকম আদালত তথা আইনি সুরক্ষা পাবে না

অর্থাৎ, আপনি গোমাংস খেলেন কি না খেলেন, মদ খেলেন কি না খেলেন- আপনাকে এই ছুঁতোতে LDAR আইন দ্বারা আপনার সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করে দেবে। এবারে ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়ার দরুন আপনি যদি প্রতিবাদ করেন, কিম্বা শিক্ষা স্বাস্থ্য ইত্যাদি পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে যদি প্রতিবাদ আন্দোলন করেন- তাহলে আপনাকে PASA আইন দিয়ে জাস্ট গায়েব করে দেবে রাষ্ট্র। আপনি আইনি সহায়তাটুকুও পাবেন না, না আপনার পরিবার জানতে পারবে আপনি কোথায় আছেন!

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার দমন পীড়নের মাধ্যমে সকল প্রকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কন্ঠরোধ এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন দমনে ‘রাউলাট আইন (The Rowlatt Act of 1919)’ প্রণয়ন করেছিল, সেটারই বর্ষপূর্তি উদযাপন করছে তৎকালীন ব্রিটিশদের পা চাঁটাদের অবৈধ জারজেরা

এটা কোনো রকেট সায়েন্স নয়, পাতি গোদা আইন। গোটা দেশে ‘হিন্দুত্ব আইন’ লাগু করার আগে ল্যাবরেটরিতে টেস্ট করার মতো লাক্ষাদ্বীপেই প্রয়োগশালা বানিয়েছে মোদী সরকার

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, প্যাটেল দায়িত্ব নিয়ে আসার ১ মাস পর পর্যন্ত লাক্ষাদ্বীপ ছিল করোনামুক্ত অঞ্চল, ২০২০ সালে সেখানে কোনো করোনা রোগী ছিল না। এর পরেই আইসোলেশন প্রথা তুলে দিয়ে বিচিত্র সব আইন প্রণয়ন করে প্যাটেল, পাশাপাশি গোমাংস ও মাছ বন্ধ করে দিতেই গরিব মানুষের সস্তার প্রোটিনের অভাব ঘটে, যথারীতি ২০২১ সালের জানুয়ারির শেষ নাগাদ দ্বীপের প্রথম করোনাক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়। গত কাল পর্যন্ত সেখনে ৬৬১১টি করোনা রোগী পাওয়া গেছে, যা মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশেরও বেশি, যার মধ্যে ২০৫০টি অ্যাক্টিভ। যেখানে করোনার প্রথম ওয়েভে ১ জনও মারা যায়নি, সেখানে দ্বিতীয় ওয়েভে ২৪ জন মারা গেছে। আক্ষরিক অর্থে সেখানে মহামারী চলছে বা প্যাটেলের নেতৃত্বে করোনার চাষ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, যাতে দ্বীপটি দ্রুত জনশূন্য হয়ে পড়ে

সোশ্যাল মিডিয়াতে সরকারের এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে যাতে কোনো আওয়াজ না উঠে, সেটাকে রোখার জন্য নতুন আইন এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। একমাত্র ‘ক্যু’ আর ‘হোয়াটস অ্যাপই’ সম্পূর্ণ মেনে নিয়েছে সেই আইন- অর্থাৎ আপনি হোয়াটস অ্যাপে যা লিখবেন, চাইলেই বিজেপির নেতারা দেখতে পাবে

এই প্রফুল্ল প্যাটের গুণের কীর্তির শেষ নেই। তার সাথেই অশান্তির দরুন IAS অফিসার কন্নন গোপীনাথন চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে নেয়, তিনি দমন দিউ ও দাদরা নগর হাভেলির জেলাশাসক ছিলেন। ২০১৯ সালে দমনে ৯০টারও বেশি ঘর ভেঙে দেয় প্রশাসক প্রফুল্লের নির্দেশে, দুটো সরকারি স্কুলকে জেলে রুপান্তরিত করে সেই গৃহহীন মানুষগুলোকে দীর্ঘদিন জেলবন্দি করে দেয়

এই বছরেরই ২২শে ফেব্রুয়ারী ‘দাদরা’র আত্মহননকারী ৭ বারের সাংসদ ‘মোহন দেলকরের’ ১৫ পাতার সুইসাইড নোটে প্রফুল্ল প্যাটেলের নাম বহুবার এলেও- রাষ্ট্রপতি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সেখানে ২৫ কোটি টাকা তোলা চেয়ে হুমকি দেওয়ারও কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত- দাদরা নগর হাভেলির প্রশাসকও এই প্রফুল্ল প্যাটেল। দেলকর ২০২০ সালের জুন মাসে কংগ্রেসে যোগ দেয়, তারও আগে সে বিজেপির সদস্য ছিল, পরে নিজেই একটা দল খুলেছিল। কংগ্রেসে যোগ দেওয়া ইস্তক এই প্রফুল্ল প্যাটেল তাকে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য প্রেসার সৃষ্টি করতে থাকে, এ কথা একটা ফেসবুক লাইভে দেলকর নিজেই জানিয়েছিলেন। এমনকি সংসদেও এ কথা তুলেছিলেন। কোথাও সুরাহা না পেয়ে মুম্বইয়ের একটা হোটেলে বেচারা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়

প্যাটেল খুব চতুরতার সাথে গোটা দ্বীপরাজ্য থেকে স্থানীয় মালায়লি ব্যবসায়ীদের বিতাড়িত করে সেখানে পেটোয়া গুজরাটি বেনিয়াদের বসিয়ে দিচ্ছে। নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ভূ-প্রকৃতি ধ্বংস করে গুজরাটি রিয়েল এস্টেট চক্রকে অবৈধ নির্মাণের ছাড়পত্র দিয়ে লাক্ষাদ্বীপের বাস্তুতন্ত্রকে চরম ক্ষতির মুখে ফেলে দিয়েছে

ব্রাহ্মণ্যবাদী RSS এর মূল অ্যাজেন্ডাই হলো মুসলমান ও দলিতকে শারিরীক ভাবে দুর্বল করে দাও, যাতে সে লড়তে না পারে। তার জন্য ধর্ম ও আইনের ফাঁসে বেঁধে দিয়ে সস্তার প্রোটিন সাপ্লাই বন্ধ করে দিতে পারলেই তাদের লক্ষ্য পূর্ণ হবে। এই কারণেই গোটা দেশ জুড়ে তাদের গোহত্যা ও গোমাংস বিরোধী যত কর্মকাণ্ড। এ নিয়ে পরবর্তীতে বিষদে লিখব, কিন্তু এটাই মূল উদ্দেশ্য। যা লাক্ষাদ্বীপের করোনা কাল চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিল

আজ লাক্ষাদ্বীপে হচ্ছে, কাল আপনার এখানে ঘটবে। তাই আজই প্রতিবাদে ফেটে পড়ুন, যেভাবে পারবেন

সমস্ত “বিজেপি ও তাদের ন্যাচারাল অ্যালি” বিরোধী সচেতন মানুষ তথা বামপন্থী ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিক সমাজের কাছে আবেদন- টুইটারে তথা সোশ্যাল মিডিয়াতে #SaveLakshadweep ট্রেন্ড করে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পরিচয় দিয়ে মোদী সরকারের মুখে জুতোর বাড়ি মেরে মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন

এখনই করুন, নতুবা বড্ড দেরি হয়ে যাবে। প্রফুল্ল প্যাটেলরা কিন্তু মরিয়া হয়ে উঠেছে


বুধবার, ২৬ মে, ২০২১

ফিলিস্তিন ২০২১- তৃতীয় পর্ব




লেবাননের হিজবুল্লাহ নামের একটি গোষ্ঠীও সিরিয়া ও ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষকে সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসন, গণহত্যা থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার স্বার্থে যুদ্ধ করছে সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের দালালদের সাথে। যদিও অনেক ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিকেরা বলে এই হামাস বা হিজবুল্লাহ নাকি জায়োনিস্টদেরই তৈরি, সে এক বিতর্কের বিষয়- যার সাপেক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
যাইহোক, হিজবুল্লার রকেটের মান হামাসের চেয়ে উন্নত, এরাও প্রতি মিনিটে বিপুল পরিমাণ ‘আনাড়ি রকেট’ দিয়ে 'আইরন ডোম'কে বিভ্রান্ত করেই দ্বিতীয় মিনিটের আক্রমণে সরাসরি 'আয়রন ডোম’কে টার্গেট করে। ইরানীয় ‘ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড’এর উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতেই ‘আয়রন ডোম’ এর গল্প শেষ হয়ে যায়। প্রসঙ্গত ‘কাশিম সুলাইমানি’ ছিল ইরানের এই ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ডের প্রধান, যাকে আমেরিকা খুন করে গত বছর।
আরা ও ইলন নামক স্থানের দুটো আয়রন ডোম ধ্বংস হয়ে যায় ১৮ই মে। দিশেহারা ইজরালের গাজা সীমান্তের পুঞ্জীভূত শক্তির অনেকটা অংশকে লেবানন ও জর্ডন সীমান্তে মোতায়েন করতে বাধ্য হয়, কারন মোসাদের কাছে হিজবুল্লার আক্রমণ নিয়ে কোনো তথ্য ছিলনা। ফলত গাজায় ইজরায়েলের আকাশ হামলার পরিমাণ কমে যায়। এই সুযোগে হামাস সমানে তার আনাড়ি রকেট হামলা চালিয়ে যেতেই থাকে, এবং মাত্র যে ১০% রকেট ইজরায়েলের মাটি স্পর্শ করছিল, তাতেই একাধিক সামরিক ঘাঁটি, শপিং মল, আবাসন সহ জনাকীর্ণ এলাকাতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হওয়া শুরু হয়।
ইজরায়েলের সরকারী মুখপত্রে ঘোষণা করা হয়- ১১ দিনে গাজা থেকে প্রায় ৪০০০ মত রকেট ইজরায়েলের ভূমি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল, যার ৯৫%কে আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া গেছে। কিন্তু সাহাম দাবী করে তাদের পক্ষ থেকে ছোড়া রকেটের পরিমাণ ছিল ১২ হাজারের কিছু বেশি, ইজরায়েল নিজেদের ব্যর্থতার লজ্জা বাঁচাতে মিথ্যা বলছে।
ইজরায়েল স্পষ্টভাবে স্বীকার করেনি তাদের দেশের নিউক্লিয়ার গবেষণা কেন্দ্র বিষয়ে, ‘বায়ো উইপনস’ গবেষণাগারগুলো দেশের ঠিক কোন প্রান্তে অবস্থিত এ বিষয়েও কিছুই খোলসা করে বলেনি। এরই মধ্যে ‘আইরন ডোম’কে বোকা বানিয়ে ইজরায়েলের ‘আসকেলন’ শহরের বিমানবন্দরে গিয়ে হাজির হয় এক দিকভ্রষ্ট আনাড়ি রকেট। বির’সেবা শহরের প্রান্তেও হামাসের একটি আনাড়ি রকেট পৌঁছে গেলে তারা প্রমাদ গুনতে শুরু করে দেয়। কিন্তু ১৯মে তারিখ রাত্রে একটি আনাড়ি রকেট তাদের রাজধানী তেল-আভিভের একটি গ্যাস স্টেশনে পৌঁছে ব্লাস্ট করলে গোটা রাজধানী শহর কার্যত আতঙ্কের চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছে যায়। ইজরাইলের অস্ত্র ভান্ডার, সেনাছাউনি, অসামরিক-সামরিক বিমানবন্দরগুলোকে বাঁচাতে ইজরায়েলের পিছিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। আতঙ্কিত ইজরায়েলি যুদ্ধপ্রিয় নেতারা সহ জনগণ নিজেরা ক্ষতির মুখে পড়তেই, নিজেদের সরকার, গোয়েন্দাদপ্তর ও সেনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়তে শুরু করে, রাস্তায় বেড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে দেয়।
কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ নয়, হামাসের আনাড়ি রকেট নিজেও জানে না সে কোথায় গিয়ে পড়বে- যদি সেই বিপুল রকেটের সমাহার থেকে একটাও ইজরায়েলের গোপন কোনো পারমাণবিক কেন্দ্র বা জৈব রসায়নাগারে পৌঁছে গিয়ে ফাটে, মুহূর্তের মধ্যে দেশটা গোরস্থানে পরিণত হবে। সুতরাং, অস্ত্রবিরতিতে যাওয়া ছাড়া কোনো দ্বিতীয় অপশন ছিল না তাদের কাছে।
ওদিকে মিশরের শাসক, মার্কিন পুতুল ‘আল-সিসি’ সরকারের প্রতিনিধি- দালালি করতেই নিজেদের নিয়োজিত করেছিল, কিন্তু সে দেশের মুসলিম ব্রাদারহুড ভীষণ শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক সংগঠন, তারা গাজা সংলগ্ন উত্তর সিনাই সীমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য সমস্ত হাসপাতালগুলো উন্মুক্ত করে দেয়, এবং আফ্রিকার নানান ইসলামিক সংগঠনের তরফে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও ওষুধের ব্যবস্থাও করে অস্থায়ী হাসপাতাল বানিয়ে ফেলে। পাশাপাশি যুদ্ধের অষ্টম দিনে হুঁশিয়ারি দেয়- ইজরায়েল না থামলে এবার মিশরের ভূমি থেকেও রকেট হামলা করা হবে। বন্ধুহীন ইজরায়েল চক্রবূহ্যে আঁটকা পড়ে যায়।
এই অবস্থায় যুদ্ধের নবম দিন সকালে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল টুইটার একাউন্ট থেকে ঘোষণা করা হয় আমাদের- ৯০০০ পদাতিক সেনা তৈরি রয়েছে, যারা খুব শিগগিরই ময়দানে নামবে। ২০১৪ এর অভিজ্ঞতা থেকে গোটা বিশ্বের পাশাপাশি হামাস বা হিজবুল্লাহ জানে- এটা হচ্ছে অসহায় ইজরায়েলের একান্ত নিজস্ব ক্ষমতার শেষ খড়কুটো। এর পরেই ন্যাটো বা আমেরিকা বাপকে প্রয়োজন। সুতরাং দ্বিগুণ উৎসাহে হামাস তার প্রতি আক্রমণ চালিয়ে যায়।
ইজরায়েললি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছিল, যে জায়গা থেকে তারা ফেরার জায়গা ছিল না- ওদিকে তার রাষ্ট্রপতিই তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। এই পরিস্থিতিতে আপাতদৃষ্টিতে আমেরিকা ‘প্রধানমন্ত্রী না রাষ্ট্রপতি’ কার পক্ষ নেবে- সিদ্ধান্তে না আসতে পারার দরুন, এমনকি মুখেও সেই অর্থে হম্বিতম্বিটুকুও না করাতে ইজরায়েল কার্যত একা হয়ে যায়।
এদিকে সিরিয়াতে থাকা রাশিয়ান সেনার উপরে ইজরায়েলি ‘এরিয়াল’ হামলার কারনে রাশিয়া যারপরনাই খাপ্পা ইজরায়েলের উপরে। গত দশকের শুরুতে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অর্থ আর অস্ত্র দিয়ে ‘আসাদ সরকারের’ বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভায়া ইজরায়েল। এখন সেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোই নিজেরা প্রাদেশিক সরকার বানিয়ে অঞ্চল দখল করে বসে আছে, যেখানে না আসাদের প্রবেশাধিকার রয়েছে- না আমেরিকা তথা ইজরায়েল। বর্তমানে ওই সকল বিদ্রোহী সিরিয়ান গোষ্ঠীগুলোর রোজগারের মূল জাইগা- তেলের ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে নিয়মিত দুরপাল্লার রকেট হামলা চালায় ইজরায়েল বিনা কারনে। যার জন্য এরাও ইজরায়েলকে বাগে পেতেই তারা অস্ত্র ও অর্থ সাহায্য পাঠাতে থাকে হামাসকে।
ওদিকে আন্তর্জাতিক দৌত্যর অ্যাডভান্টেজ যদি কেউ পেয়ে থাকে, সেটা ফিলিস্তিনিই পেয়েছিল এইবারে। ইরান শুরু থেকেই হামাস বা হিজবুল্লাহদের সমর্থন দিয়ে আসে, তার সামান্য প্রকাশ্যে বাকিটা গোপনে। এবারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলোকে একত্রিত করার যে প্রচেষ্টা করেছিল, তাতে তারা কূটনৈতিকভাবে সফলতা অর্জন করেছে বলা যেতেই পারে। একসময় ব্রিটিশরা ছিল মধ্যপ্রাচ্যে শেষ কথা, তাদের লেজ ধরে অন্যান্য পশ্চিমা ইউরোপের দেশগুলো শোষণ চালাত, পরে আমেরিকা তাদের একচ্ছত্র দাপট দিয়ে এলাকা দখল করে নেয়। সোভিয়েতের পতন হতে ৯০ এর দশক থেকে শুরু হয় লাগামহীন মার্কিনি দাদাগিরি ও অত্যাচার।
মার্কিন মদতে ঘটা ২০১১ এর তথাকথিত ‘আরব বসন্তের’ দূষিত বাতাস ব্যর্থ প্রমাণিত হতেই- মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের মার্কিন মোহ কাটতে শুরু হয়। ততদিনে চীন বৃহত্তর শক্তি হিসাবে এই অঞ্চলে ঢুকে পড়েছে, রাশিয়াও নতুন করে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে- এদের চেয়েও মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে তুরস্ক- যারা গত শতক পর্যন্ত দীর্ঘ ৭০০ বছর ধরে রাজত্ব করেছিল এইসব অঞ্চলে। সেই তুরস্ককে চীন ও রাশিয়ার সাথে দৌত্য করতেই মার্কিন প্রশাসন সিঁদুরে মেঘ দেখে।
খালি চোখে দেখে মনে হয়েছিল, এরদোয়ানই বোধহয় জর্ডন এবং ইরাকের বিমানঘাঁটি গুলো ব্যবহার করে ইসরাইল উপর আক্রমণ হানার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু কুয়েতের আমির ঘনিষ্ট পার্লামেন্ট সদস্য ‘আবদুল্লাহ নাফেসির’ একটা টুইটে গোটা মধ্যপ্রাচ্য সহ আমেরিকা ও ইজরায়েলে ভয়ানক আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে যায়। টুইটটির দাবী অনুযায়ী- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর তরফে সেনা পাঠানোর সবুজ সিগনাল পাঠানো হয়েছিল, সেই মোতাবেক যুদ্ধের নবম দিনে পাকিস্তানি সেনার চিনা যুদ্ধবিমানের তিনটি বহর ইরাক ও জর্ডনের ৫টি সামরিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
চিন সরাসরি নিজে না লড়ে, আসলে পাকিস্তানকে লেলিয়ে দিয়েছিল। কিছুদিন আগেই পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ইরাক সফরে গিয়ে সেদেশের সেনার সাথে বেশি কিছু সামরিক চুক্তি করে আসে। এর ফলে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রদর্শন করলেও তাঁর বেশি আর এগোতে পারেনি, তখনই বোঝা গেছিল, এর পিছনে চিনের মদত ছাড়া এটা সম্ভব ছিলনা। অর্থাৎ সাপের ছুঁচো গেলা পরিস্থিতি হয়েছিল ইজরায়েলের জন্য।
এক্ষেত্রে অর্থনীতি একটা বড় ভূমিকা কাজ করেছে যুদ্ধ থামিয়ে দিতে।
প্রথমত, অর্থনীতির কারণেই এবারে মার্কিনিরা আগবাড়িয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েনি, তাদের আভ্যন্তরীণ মাথাপিছু ঋণ বিপুল, সেদেশও বর্ণবাদ ও বেকারত্ব সমস্যায় জর্জরিত। এর সাথে গোটা বিশ্বের মতো মধ্যপ্রাচ্যেও বিপুল পরিমাণে আর্থিক লগ্নি করে রেখেছে চীন। আমেরিকার সঙ্গে চীনের সংঘাত কোন গোপনীয় গল্প নয়, আমেরিকা যদি সরাসরি ইজরাইলের পক্ষ নেয় সেক্ষেত্রে চীন তুরস্ককে দিয়ে ফিলিস্তিনি জোটের পক্ষ নেবে না এ কথাও জোর দিয়ে বলা যাবে না। প্রত্যক্ষভাবে মার্কিন হামলা মানে সরাসরি চীনের সম্পত্তির উপরে হামলা, অবধারিতভাবে যুদ্ধ বাঁধলে চীন তাদের মিত্রদেশ হিসাবে ইরান ও তুরস্কের পাশে দাঁড়াবে। এদের সাথে রাশিয়াও ঝাঁপিয়ে পড়বে মার্কিনিদের বাগে পেয়ে। সুতরাং এই চার শক্তিধর দেশকে অগ্রাহ্য করার শক্তি মার্কিনিদের ছিল না।
আর ঠিক এই কারণেই, প্রতিবার যেরকম ঘুঘুতে ধান খেয়ে ধানের ‘গোলা’টা নিয়েই পালিয়ে যায়, এবারে ইজরাইলের পক্ষে সেই জিনিসটা হয়নি। তাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতার চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ‘টাইমস অফ ইজরায়েল’ নামের সংবাদপত্র লিখেছে- এটা অপরিকল্পিত যুদ্ধ ছিল, নেতানিয়াহুর একান্ত সিদ্ধান্তে। প্রতিদিন যুদ্ধ চালাবার খরচ ছিল ভারতীয় মুদ্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উপরে। এর সাথে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আনুসাঙ্গিক খরচা মিলিয়ে এই ১১ দিনের যুদ্ধে ১৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচা হয়ে গেছে, যা তাদের দুঃস্বপ্নেও ছিল না। মোটকথা চারপাশের সাঁড়াশি আক্রমণে নাস্তানাবুদ হয়ে একপ্রকার রণে ভঙ্গ দিয়েছে কাগুজে বাঘ ‘ইজরায়েল’।
ইজরাইল সারা বছর যে কাজটা করে সেটা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে নিয়মিত অশান্তি লাগিয়ে রাখা। গুপ্তহত্যা, সরকার বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে ঘুষ দেওয়া, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও মৌলবাদী সংগঠনগুলোকে অস্ত্র ও অর্থ সাপ্লাই করা ইত্যাদি। এসবের মাধ্যমে রাজনৈতিক অশান্তি সৃষ্টি হলেই সেখানে আমেরিকার এন্ট্রি ঘটে ও তাদের নিয়ন্ত্রিত পুতুল সরকার বসিয়ে দেয়। এর ফলে ইজরায়েলের সকল পড়শি দেশগুলো কার্যত তাদেরই নিয়ন্ত্রণে রয়ে যায়। রাষ্ট্রপুঞ্জও হিজড়া সেজে থাকে যতক্ষণ না ইজরায়েল আক্রান্ত হয়, তাই তারাও রেকর্ডেড বুলির বাইরে কিছুই বলেনি বা করেনি শুরু থেকে।
শেষ দশ বছরে যদি আমেরিকার সাফল্য দেখা হয় তাহলে তার ঝুলিতে শুধুই শূন্যতা আর হাহাকার ছাড়া কিছু নেই। কাতার হাতছাড়া হয়েছে, সিরিয়া থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে, লিবিয়া থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, ইরাক থেকে বিতাড়িত হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে পাত্তাড়ি গুটিয়েছে। এমনকি আফ্রিকার বহু দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের হরেক দেশ থেকে তাবু গুটোতে বাধ্য হয়েছে যে জায়গাগুলোতে একসময় একচ্ছত্রভাবে ব্যবসা করত। ইউরেশিয়াতে আজারবাইজান- আর্মেনিয়া যুদ্ধ ঘটল, আমেরিকার নামটুকু উচ্চারিত হয়নি সেখানে, এমনই অপ্রাসঙ্গিক অবস্থায় চলে যাচ্ছে মার্কিনি ঔদ্ধত্য। এমতাবস্থায় সরাসরি যুদ্ধ ছাড়া নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করা আমেরিকার পক্ষে অসম্ভব, বরং চীন-রাশিয়া-তুরস্ক-ইরানের উত্থানে তাদের পতনও ক্রমশ ত্বরান্বিত হবে। আর যদি একান্তই যুদ্ধ হয়, তাহলে সেটা অবশ্যম্ভাবীভাবে বিশ্বযুদ্ধই হবে।
…ক্রমশ

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...